
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ গোদার বিল ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। অপরাধী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটক, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র পদ্ধতিতে ছিনতাই, অপহরণ এবং জবরদস্তিমূলক অর্থ আদায় করে আসছিল। পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি বিজিবির নজরে আসে। এই অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২ বিজিবি অধিনায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী গোদারবিল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ শেষরাতে ০৪৫০ ঘটিকায়, চারদিকে যখন গাঢ় অন্ধকার, ঠিক তখনই গোদারবিল এলাকাসহ মেরিন ড্রাইভ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে একাধিক বিশেষ অভিযানিক দল মোতায়েন করা হয়। অভিযানিক দল কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেনের বসতবাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে বিজিবির অভিযানিক দল উক্ত বাড়িতে দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সাথে অভিযান পরিচালনা করে ০২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে, অভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ইমাম হোসেনসহ চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য রাতের অন্ধকারের সুযোগে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে বিজিবির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ধৃত আসামীর বিস্তারিত নিম্নরুপ
ক। নুর আহম্মদ (২৫), পিতা-মকবুল আহম্মেদ, গ্রাম-গোদারবিল, ০৬ নং ওয়াড, টেকনাফ সদর, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
পলাতক আসামীদের বিস্তারিত নিম্নরুপ
ইমাম হোসেন, পিতা-আব্দুল জব্বার, গ্রাম-গোদারবিল, ০৬ নং ওয়ার্ড, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
অজ্ঞাত আসামী-০২/০৩ জন।
জব্দকৃত আলামত
পাইপগান -০১ টি।
ওয়ান সুটারগান-০১ টি।
মোবাইল ফোন-০১ টি।
৩। এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি, জানান যে, অভিযান চলাকালীন সন্ত্রাসী চক্রের কয়েকটি গোপন আস্তানা, চলাচলের রুট ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে। এছাড়াও, অপরাধীরা পর্যটক ও সাধারণ মানুষের গতিপথে ওৎ পেতে থেকে রাতের অন্ধকারে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, মূল্যবান দ্রব্য ছিনতাই এবং সুযোগ পেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অধিনায়ক আরো বলেন, “মানবতা এবং দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই অভিযান কেবল আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ নয়, বরং এই অঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপ ব্যাহত করার সক্ষমতাও তুলে ধরে। আমরা নিয়মিত এই ধরনের অভিযান চালাব যাতে সীমান্তে সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যায়।
ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা রুজু এবং আটককৃত অস্ত্রগুলো আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন ডেস্কঃ 



















