ঢাকা , শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে বাবর বলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাদক নির্মূল ও বেকার সমস্যা দূর করবেন।  সৌদি-কাতারি প্যানেল অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ অর্জনের জন্য যৌথ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে। রাজধানী ঢাকার  জাতীয় চিড়িয়াখানায় হঠাৎ খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে এলো সিংহ,  তেলিগাতী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ভোরে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে  বিএনপি’র ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা: সুনামগঞ্জ-২ এ নাছির, সুনামগঞ্জ-৪ এ নূরুল  টেকনাফে শাহপুরীর দ্বীপে সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গোলার চরে আটকে পড়া সেন্টমার্টিনগামী সার্ভিস বোটের ৪৫ যাত্রীকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। দেশনেত্রীর সুস্থতার প্রার্থনায় ধর্মপাশায় বিএনপির বিশাল দোয়া মাহফিল আটপাড়ায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি–কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পূর্বধলায় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

মূল নকশায় ফিরছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভাস্কর্য ‘অঞ্জলি লহ মোর’

নাজমুল হুদা, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভাস্কর্য ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভেঙে ফেলার গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে না বরং তা মূল নকশায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

 

১৭ জুন, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের পাশের পুকুরপাড়ে স্থাপিত এই ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভেঙে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের উদ্যোগে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ও শতাধিক গাছ কেটে নির্মিত হয় ভাস্কর্যটি। তবে নির্মাণের পর দেখা যায়, এটি পূর্বে ঘোষিত নকশা থেকে আলাদা। মূল নকশায় না থাকা দুটি ‘অদ্ভুত’ হাতের স্থাপনা যুক্ত হওয়ায় এটি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অনেকে একে ‘সাম্প্রদায়িক প্রতীক’ বলেও অভিহিত করেন।

 

ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আহমদ আব্দুল্লাহ বলেন, “এই ভাস্কর্যে আমাদের জাতিসত্তা বা ভৌগোলিক কোন উপাদান নেই। এটি শুধু একজন বিতর্কিত সাবেক উপাচার্যের আত্মপ্রেম এবং সনাতন ধর্মের প্রতি পক্ষপাতের বহিঃপ্রকাশ।”

 

স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রনি বলেন, “যে কোনো উন্নয়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব ও স্থায়িত্ব বিবেচনা জরুরি। ‘অঞ্জলি লহ মোর’-এর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলেই মনে করি। এমনকি নজরুলের গানের সাথে এর নামের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়াও প্রশ্নবিদ্ধ।”

 

এ বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের যে কয়েকটি দাবির মধ্যে একটি ছিল ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা, তখন আমরা তা বিবেচনায় নেইনি। তবে এখন জলাধারটির সৌন্দর্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে ভাস্কর্যটি তার মূল নকশায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।”

 

তিনি আরও জানান, “পূর্ববর্তী প্রশাসন যে নকশা অনুমোদন করেছিল, বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বর্তমানে আমরা সেই মূল নকশায় ফিরিয়ে নিয়ে সংস্কার কাজ করছি। আজকেও ডিনস কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

 

প্রসঙ্গত, এর আগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলমের সময় কলা অনুষদের পাশের পুকুরে নির্মিত হয়েছিলো ‘সিন্ধু সারোস’ নামক ভাসমান স্থাপনা, যা ক্যাম্পাসে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ভেঙে ‘অঞ্জলি লহ মোর’ স্থাপন করেন, যা সময়ের সাথে বিতর্কে পরিণত হয়।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়ে বাবর বলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাদক নির্মূল ও বেকার সমস্যা দূর করবেন। 

মূল নকশায় ফিরছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভাস্কর্য ‘অঞ্জলি লহ মোর’

আপডেট টাইমঃ ১১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

নাজমুল হুদা, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভাস্কর্য ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভেঙে ফেলার গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে না বরং তা মূল নকশায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

 

১৭ জুন, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের পাশের পুকুরপাড়ে স্থাপিত এই ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভেঙে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের উদ্যোগে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ও শতাধিক গাছ কেটে নির্মিত হয় ভাস্কর্যটি। তবে নির্মাণের পর দেখা যায়, এটি পূর্বে ঘোষিত নকশা থেকে আলাদা। মূল নকশায় না থাকা দুটি ‘অদ্ভুত’ হাতের স্থাপনা যুক্ত হওয়ায় এটি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অনেকে একে ‘সাম্প্রদায়িক প্রতীক’ বলেও অভিহিত করেন।

 

ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আহমদ আব্দুল্লাহ বলেন, “এই ভাস্কর্যে আমাদের জাতিসত্তা বা ভৌগোলিক কোন উপাদান নেই। এটি শুধু একজন বিতর্কিত সাবেক উপাচার্যের আত্মপ্রেম এবং সনাতন ধর্মের প্রতি পক্ষপাতের বহিঃপ্রকাশ।”

 

স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রনি বলেন, “যে কোনো উন্নয়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব ও স্থায়িত্ব বিবেচনা জরুরি। ‘অঞ্জলি লহ মোর’-এর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলেই মনে করি। এমনকি নজরুলের গানের সাথে এর নামের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়াও প্রশ্নবিদ্ধ।”

 

এ বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের যে কয়েকটি দাবির মধ্যে একটি ছিল ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা, তখন আমরা তা বিবেচনায় নেইনি। তবে এখন জলাধারটির সৌন্দর্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে ভাস্কর্যটি তার মূল নকশায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।”

 

তিনি আরও জানান, “পূর্ববর্তী প্রশাসন যে নকশা অনুমোদন করেছিল, বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি। বর্তমানে আমরা সেই মূল নকশায় ফিরিয়ে নিয়ে সংস্কার কাজ করছি। আজকেও ডিনস কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

 

প্রসঙ্গত, এর আগে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলমের সময় কলা অনুষদের পাশের পুকুরে নির্মিত হয়েছিলো ‘সিন্ধু সারোস’ নামক ভাসমান স্থাপনা, যা ক্যাম্পাসে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দায়িত্ব নেওয়ার পর তা ভেঙে ‘অঞ্জলি লহ মোর’ স্থাপন করেন, যা সময়ের সাথে বিতর্কে পরিণত হয়।