
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
১। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার পর্যটন নগরীতে অবস্থিত কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সদা জাগ্রত সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনে যথাযথ ও কার্যকরীভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বেসামরিক পরিমন্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ০৬ মাসে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণে চোরাচালানী মালামাল আটকসহ জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ক। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ঘুমধুম বিওপি’র একটি বিশেষ টহলদল কর্তৃক সীমান্ত হতে ০৫ কিঃ মিঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পশ্চিম দরগাহ বিল কবরস্থান নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামীবিহীন ৪,০০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে যা নিকট অতীতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ইয়াবা উদ্ধারের বড় একটি সফলতা। এছাড়াও বিগত ০৬ মাসে (এপ্রিল ২০২৫ তারিখ হতে অদ্যবধি) বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে ১৩,৪১,১৩৫ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ সর্বমোট ৪০,২৪,৮৫,৩১০/- (চল্লিশ কোটি চব্বিশ লক্ষ পঁচাশি হাজার তিনশত দশ টাকা) মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ১০,৫৪,৪৪,৮২১/- (দশ কোটি চুয়ান্ন লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার আটশত একুশ) টাকা মূল্যের অন্তমূর্খী/বহির্মূখী বিভিন্ন প্রকার সিগারেট, গরু, বাংলাদেশেী সার সিমেন্ট, প্রসাধনী, ঔষধ সামগ্রী, জ্বালানী তেল, হার্ডওয়্যার মালামাল ও রশদ সামগ্রীসহ সর্বমোট ৫০,৭৯,৩০,১৩১/- (পঞ্চাশ কোটি ঊনআশি লক্ষ ত্রিশ হাজার একশত একত্রিশ) টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল এবং ৯৫ জন আসামী আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
*জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড।* কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কর্তৃক সীমান্তে জনসচেতনতা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে অবৈধ সীমান্ত পারাপার/মাইন বিস্ফোরণ প্রতিরোধ, মাদক ও ইয়াবা পাচার প্রতিরোধসহ সীমান্ত এলাকার জনগণের যে কোন সমস্যা সমাধান কল্পে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছে। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল/মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের আর্থিক প্রণোদনা, খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান এবং বৌদ্ধ বিহারে আর্থিক অনুদানসহ গরিব দুঃস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিনসহ নানাবিধ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে শূন্য লাইনে প্রতিপক্ষ স্থাপনকৃত মাইন বিস্ফোরণে আহতদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিশেষে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অনলাইন ডেস্কঃ 


















