ঢাকা , সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক ৩০ বছর পর যে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি ( ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৬ (বাঞ্ছারামপুর) বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন জোনায়েদ সাকি। ময়মনসিংহ ১১ভালুকা সংসদীয় আসনে জামানত হারালেন দুই প্রার্থী।  নেত্রকোণা-৫ আসনের ফল বাতিল ও পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ময়মনসিংহ ১০ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী কে ফুলের শুভেচ্ছা।  এমপি নির্বাচিত হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে গেলেন জামায়াতের মাসুদ সাঈদী বাগেরহাট-২ আসনে বিজয়ের দারপ্রান্তে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ  মদনে ওসির বাসায় ডাকাতি দস্যুতার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। ময়মনসিংহে বিএনপি-৮ জামায়াত-২ ও ১টিতে স্বতন্ত্র বিজয়ী হয়েছেন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় বয়ে চলেছে নির্বাচনী বাতাস।

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯১ বার

পলাশ পাল, বারহাট্টা প্রতিনিধি

 

প্রচার,প্রচারণা সহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে শহর,গ্রাম,পাড়া,মহল্লায় বাড়ছে

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের গণসংযোগ। নেত্রকোনার সংসদীয় পাঁচটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে দ্রুত গতিতে।সবগুলো আসনেই ইতিমধ্যে বিএনপি,জামায়াতে ইসলামীর,এনসিপি সহ

অন্যান্য নিবন্ধিত দলের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।এসব মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক দলীয় নেতা–কর্মী ও অনুসারীদের পাশে নিয়ে এলাকায় নানাভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী

দলীয় নেতা–কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বলে জানা যায় , বিএনপি ও জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে এবং কৌশলে গণসংযোগ,সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মতবিনিময় সভা সহ স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে চলেছেন। সেই সাথে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্ক কে কাছে এবং পাশে টানতে চেষ্টা করছে বড় দুই দল সহ অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরাও তবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর মাঝেমধ্যে কিছু কর্মসূচি ও গণসংযোগ কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)

সীমান্তবর্তী এলাকার আসনটি পাহাড়, সমতল ও হাওর অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।বিগত আমলে ২বার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। অপেক্ষাকৃত তরুণ এই প্রার্থী গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে নিজ সংসদীয় এলাকায় চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

ব্যাপক বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কায়সার কামাল জানান ‘আমি জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। তাই বিগত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের সমর্থ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক কাজ করার চেষ্টা করে আসছি।এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক ভাবেও আমার রয়েছে স্বচ্ছ ও বিনয়ী ভূমিকা প্রত্যাশা করি ভোটাররা এসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন।’

এখানে কেন্দ্র থেকে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন উক্ত উপজেলা শাখার আমির আবুল হাসিম। তিনিও সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন দলিয় এবং সামাজিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তবে এই আসনের সিপিবি থেকে প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহ।ইতিমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য খাইরুল বাশার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে বিভিন্ন কারণে আলোচিত গোলাম রব্বানীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা)

জেলা সদরের আসনটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার মো. আনোয়ারুল হক। এর আগেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এবার এই আসন থেকেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অন্তত পাঁচ জন হেভিয়েট নেতা। তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আবদুল বারী।

কেন্দ্র হতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার পর অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আনোয়ারুল হকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও এ টি এম আবদুল বারী এখনো নিজ মনোনয়ন প্রাপ্তির অপেক্ষায় আছেন বলে জানা যায়।তিনি জানান ,যেহেতু এটি প্রাথমিক মনোনয়ন, তাই চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

ডাক্তার মো.আনোয়ারুল হক জানান, আমি মনোনয়ন প্রাপ্তির আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় সার্বিকভাবে সক্রিয়।শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, চিকিৎসক হিসেবেও বিগত সময় থেকে মানুষের পাশে থেকেছি এবং এখনো আছি এবং ভবিষ্যতে থাকবো । দলের দুঃসময়ে নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে নিয়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমাকে ভালোবেসেই নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীরা আমার পক্ষে নিয়মিত মিছিল-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য যে, এই আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি জেলা জামায়াতের সাবেক আমির।জেলা জামায়াতের বর্তমান আমির ছাদেক আহমাদ হারিছ জানান , ‘জামায়াতে ইসলামী অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল। কেন্দ্র থেকে জেলার পাঁচটি আসনেই জনগণের গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কাজেই জয়ের ব্যাপারে আমরা ও আশাবাদী।’

এ আসনে এনসিপি থেকে সদ্য মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। গণ অধিকার পরিষদ থেকে কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, ইসলামী আন্দোলন থেকে আব্দুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রুহীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া)

আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ড:মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে। সাবেক এই ছাত্রনেতা আগেও একাধিকবার বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও নিজ নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি এবং সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছি। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আনন্দচিত্তে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।তবে স্থানীয় ও

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ছাড়াও এখানে বিএনপির মনোয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন স্থানীয় নেতা।

আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছে জেলা কমিটির শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল কবির নিয়োগী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে আটপাড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মাদ শামছুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জাকির হোসেন সুলতান,এনসিপির ব্যবসায়ী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম)।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি)

হাওরবেষ্টিত বিশাল জনগোষ্ঠীর তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আসনটি থেকে তিনি তিন তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।বিগত সময়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাস করার পর গত জানুয়ারিতে তিনি কারামুক্ত হন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকায় এলাকায় ফিরে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন ।

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমি সব সময় উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী । অতীতে এলাকার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। ভবিষ্যতেও করব। এ ছাড়া স্থানীয় জনগণের কাছে, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠন,সুশিক্ষা, বিশ্বাস ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার ধীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে এ আসনে

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদারও নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মদন উপজেলার আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেছুর রহমান প্রধান দলীয় কেন্দ্র হতে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।তবে, সিপিবি থেকে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রের প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)

আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের পূর্বধলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ ও দলীয় অনুসারী জন সাধারণ। উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার বলেন, আবু তাহের তালুকদার একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দলীয় অনুগত্য নেতা। তাঁর বিজয়ের লক্ষ্যে দলের নেতা-কর্মীরা সম্মিলিত ভাবে নানারকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আবু তাহের তালুকদার নিজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ফ্যাসিস্ট আমলেও দলের কর্মকাণ্ডে ঝুঁকি নিয়ে সর্বদা সক্রিয় থেকেছি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি । মামলা-হামলা, গুলি, ভাঙচুর ও হয়রানির শিকার হয়েছি বারবার। এ কারণে দলের নেতা-কর্মীরা আমার মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়ে দিনরাত আন্তরিকতার সাথে শ্রম করে যাচ্ছেন। তবে এ

আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও বসে নেই। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদেরও নানামুখী তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় ।এখানে জামায়াতের প্রার্থী, জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম মোস্তফা। জামায়াত আসন্ন নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত্তে ব্যাপক আশাবাদী। এই আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি হাবিবুল্লাহ খানকে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় বয়ে চলেছে নির্বাচনী বাতাস।

আপডেট টাইমঃ ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

পলাশ পাল, বারহাট্টা প্রতিনিধি

 

প্রচার,প্রচারণা সহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে শহর,গ্রাম,পাড়া,মহল্লায় বাড়ছে

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের গণসংযোগ। নেত্রকোনার সংসদীয় পাঁচটি আসনে নির্বাচনী হাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে দ্রুত গতিতে।সবগুলো আসনেই ইতিমধ্যে বিএনপি,জামায়াতে ইসলামীর,এনসিপি সহ

অন্যান্য নিবন্ধিত দলের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।এসব মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীরা নিজ নিজ রাজনৈতিক দলীয় নেতা–কর্মী ও অনুসারীদের পাশে নিয়ে এলাকায় নানাভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী

দলীয় নেতা–কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বলে জানা যায় , বিএনপি ও জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে এবং কৌশলে গণসংযোগ,সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মতবিনিময় সভা সহ স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে চলেছেন। সেই সাথে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্ক কে কাছে এবং পাশে টানতে চেষ্টা করছে বড় দুই দল সহ অন্যান্য দলীয় প্রার্থীরাও তবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। বামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর মাঝেমধ্যে কিছু কর্মসূচি ও গণসংযোগ কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)

সীমান্তবর্তী এলাকার আসনটি পাহাড়, সমতল ও হাওর অঞ্চল নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল।বিগত আমলে ২বার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। অপেক্ষাকৃত তরুণ এই প্রার্থী গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে নিজ সংসদীয় এলাকায় চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

ব্যাপক বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কায়সার কামাল জানান ‘আমি জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। তাই বিগত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের সমর্থ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় জনকল্যাণমূলক কাজ করার চেষ্টা করে আসছি।এ ছাড়া এলাকার রাজনৈতিক ভাবেও আমার রয়েছে স্বচ্ছ ও বিনয়ী ভূমিকা প্রত্যাশা করি ভোটাররা এসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করবেন।’

এখানে কেন্দ্র থেকে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন উক্ত উপজেলা শাখার আমির আবুল হাসিম। তিনিও সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন দলিয় এবং সামাজিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। তবে এই আসনের সিপিবি থেকে প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহ।ইতিমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য খাইরুল বাশার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে বিভিন্ন কারণে আলোচিত গোলাম রব্বানীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা)

জেলা সদরের আসনটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সভাপতি ডাক্তার মো. আনোয়ারুল হক। এর আগেও তিনি বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে এবার এই আসন থেকেই বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অন্তত পাঁচ জন হেভিয়েট নেতা। তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আবদুল বারী।

কেন্দ্র হতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার পর অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আনোয়ারুল হকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও এ টি এম আবদুল বারী এখনো নিজ মনোনয়ন প্রাপ্তির অপেক্ষায় আছেন বলে জানা যায়।তিনি জানান ,যেহেতু এটি প্রাথমিক মনোনয়ন, তাই চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

ডাক্তার মো.আনোয়ারুল হক জানান, আমি মনোনয়ন প্রাপ্তির আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় সার্বিকভাবে সক্রিয়।শুধু রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, চিকিৎসক হিসেবেও বিগত সময় থেকে মানুষের পাশে থেকেছি এবং এখনো আছি এবং ভবিষ্যতে থাকবো । দলের দুঃসময়ে নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে নিয়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। আমাকে ভালোবেসেই নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীরা আমার পক্ষে নিয়মিত মিছিল-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য যে, এই আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি জেলা জামায়াতের সাবেক আমির।জেলা জামায়াতের বর্তমান আমির ছাদেক আহমাদ হারিছ জানান , ‘জামায়াতে ইসলামী অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল। কেন্দ্র থেকে জেলার পাঁচটি আসনেই জনগণের গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। কাজেই জয়ের ব্যাপারে আমরা ও আশাবাদী।’

এ আসনে এনসিপি থেকে সদ্য মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। গণ অধিকার পরিষদ থেকে কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, ইসলামী আন্দোলন থেকে আব্দুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রুহীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া)

আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ড:মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে। সাবেক এই ছাত্রনেতা আগেও একাধিকবার বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও নিজ নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি এবং সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করছি। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আনন্দচিত্তে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।তবে স্থানীয় ও

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ছাড়াও এখানে বিএনপির মনোয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন স্থানীয় নেতা।

আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছে জেলা কমিটির শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য খায়রুল কবির নিয়োগী। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে আটপাড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মাদ শামছুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে জাকির হোসেন সুলতান,এনসিপির ব্যবসায়ী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম)।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরি)

হাওরবেষ্টিত বিশাল জনগোষ্ঠীর তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আসনটি থেকে তিনি তিন তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।বিগত সময়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাস করার পর গত জানুয়ারিতে তিনি কারামুক্ত হন এবং নিজ নির্বাচনী এলাকায় এলাকায় ফিরে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন ।

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমি সব সময় উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী । অতীতে এলাকার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। ভবিষ্যতেও করব। এ ছাড়া স্থানীয় জনগণের কাছে, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠন,সুশিক্ষা, বিশ্বাস ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার ধীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে এ আসনে

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদারও নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মদন উপজেলার আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখলেছুর রহমান প্রধান দলীয় কেন্দ্র হতে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।তবে, সিপিবি থেকে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রের প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা)

আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের পূর্বধলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ ও দলীয় অনুসারী জন সাধারণ। উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার বলেন, আবু তাহের তালুকদার একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দলীয় অনুগত্য নেতা। তাঁর বিজয়ের লক্ষ্যে দলের নেতা-কর্মীরা সম্মিলিত ভাবে নানারকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আবু তাহের তালুকদার নিজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ফ্যাসিস্ট আমলেও দলের কর্মকাণ্ডে ঝুঁকি নিয়ে সর্বদা সক্রিয় থেকেছি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি । মামলা-হামলা, গুলি, ভাঙচুর ও হয়রানির শিকার হয়েছি বারবার। এ কারণে দলের নেতা-কর্মীরা আমার মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়ে দিনরাত আন্তরিকতার সাথে শ্রম করে যাচ্ছেন। তবে এ

আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরাও বসে নেই। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাদেরও নানামুখী তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় ।এখানে জামায়াতের প্রার্থী, জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুম মোস্তফা। জামায়াত আসন্ন নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত্তে ব্যাপক আশাবাদী। এই আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি হাবিবুল্লাহ খানকে।