ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খাগড়াছড়ি জোনের মানবিক উদ্যোগ পানছড়িতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা সামগ্রী ও ঢেউটিন বিতরণ ​মদনে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা বীরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: ৩ জনের জেল, গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গাজীপুরে কাপাসিয়ায় একেই পরিবারের পাঁচজন খুন পলাতক ঘাতক স্বামী ফোরকান র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে পালংখালীতে ২ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবার চালান জব্দ মাদক, চুরি ও ইভটিজিং প্রতিরোধে জাহাঙ্গীরপুর ফাজিল মাদ্রাসায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ভালুকায় মানবসেবায় তিন দশক: অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা ফাদার বেন্জামিন বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বন্ধুত্ব ডোনার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি দীর্ঘ ২৯ বছরের সেবার পর বিদায় আবেগে ভাসল পানছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ মহেশখালীতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ডাকাত ফজল কাদের বাহিনীর ৪ সক্রিয় সদস্যকে আটক

কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা রহস্য উদঘাটন আটক ০১

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

 

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ জানুয়ারী সকালে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ গ্রামের লাইট্টাউড়ি নামক এলাকার ফসলী জমিতে হাত পুড়ানো জবাই করা অবস্থায় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করার পর পরিচয় সনাক্তের চেষ্টাকালে পার্শবর্তী কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের মৌলা মিয়ার পুত্র সুজন মিয়া জানান, এটি তার ছোট ভাই রিপন মিয়ার (২৫) লাশ। সে একজন রাজমিস্ত্রী। সে দুই দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

 

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ক্লুলেস হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় নিহত রিপনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে গত ৩ জানুয়ারী চার জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কেন্দুয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ এর নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ৪ জানুয়ারী দুপুরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় বিদ্যাবল্লভ গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রাকিব মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত রাকিব বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীঃ প্রদান করে। আদালতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারী রাতে বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে রিপন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে মাতাত্মক আহত হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার দুই হাত পুড়ে যায়।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশংকায় এবং চুরির ঘটনাটি আড়াল করতেই এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আহত রিপন মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে নিয়ে গলার সামনে ও পিছন দিকে জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ি জোনের মানবিক উদ্যোগ পানছড়িতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা সামগ্রী ও ঢেউটিন বিতরণ

কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা রহস্য উদঘাটন আটক ০১

আপডেট টাইমঃ ০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস রিপন হত্যা মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

 

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ জানুয়ারী সকালে কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের বিদ্যাবল্লভ গ্রামের লাইট্টাউড়ি নামক এলাকার ফসলী জমিতে হাত পুড়ানো জবাই করা অবস্থায় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

 

পরবর্তীতে পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করার পর পরিচয় সনাক্তের চেষ্টাকালে পার্শবর্তী কালেঙ্গা মাইজপাড়া গ্রামের মৌলা মিয়ার পুত্র সুজন মিয়া জানান, এটি তার ছোট ভাই রিপন মিয়ার (২৫) লাশ। সে একজন রাজমিস্ত্রী। সে দুই দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে এসেছে। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

 

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ক্লুলেস হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় নিহত রিপনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে গত ৩ জানুয়ারী চার জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর কেন্দুয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ এর নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত ৪ জানুয়ারী দুপুরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় বিদ্যাবল্লভ গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. রাকিব মিয়াকে (২৪) গ্রেফতার করে।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত রাকিব বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীঃ প্রদান করে। আদালতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারী রাতে বিদ্যাবল্লভ গ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে রিপন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে মাতাত্মক আহত হয়। বিদ্যুৎস্পর্শে তার দুই হাত পুড়ে যায়।

 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার আশংকায় এবং চুরির ঘটনাটি আড়াল করতেই এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই আহত রিপন মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে নিয়ে গলার সামনে ও পিছন দিকে জবাই করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।