
নাছিম মৃধা,জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট (সুন্দরবন)
চলতি শীতে অস্বাভাবিক ঠান্ডা ও দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পশু-পাখি। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ায় বনজ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে চিত্রা হরিণ ও পরিযায়ী পাখিরা।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত শীতে সুন্দরবনের খোলা চর ও বনভূমিতে কচি ঘাস ও লতাপাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে খাদ্য সংকটে পড়ছে হরিণ। দুর্বল হরিণ দলছুট হয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসছে, এতে বাঘের আক্রমণ ও মানব–প্রাণী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। কিছু এলাকায় ঠান্ডাজনিত দুর্বলতা ও অপুষ্টির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে অতিথি পাখির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। জলাভূমিতে পানির তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাছ ও জলজ কীটের চলাচল কমে এসেছে, যা পাখিদের খাদ্য সংকট তৈরি করছে। অনেক পাখিকে দীর্ঘ সময় গাছের ডালে জড়সড় হয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
শীতের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য বন্যপ্রাণীর ওপরও। বানর ও বন্য শুকরের স্বাভাবিক চলাচল কমে গেছে। কুমির ও সরীসৃপরা দীর্ঘ সময় রোদের অপেক্ষায় নদীর পাড়ে অবস্থান করছে, যা তাদের খাদ্য সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের তীব্রতা বাড়ায় সুন্দরবনের প্রাণিকুল নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত নজরদারি বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার রোধ এবং সংকটাপন্ন এলাকায় বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্কঃ 



















