ঢাকা , সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক ৩০ বছর পর যে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি ( ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৬ (বাঞ্ছারামপুর) বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন জোনায়েদ সাকি। ময়মনসিংহ ১১ভালুকা সংসদীয় আসনে জামানত হারালেন দুই প্রার্থী।  নেত্রকোণা-৫ আসনের ফল বাতিল ও পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ময়মনসিংহ ১০ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী কে ফুলের শুভেচ্ছা।  এমপি নির্বাচিত হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে গেলেন জামায়াতের মাসুদ সাঈদী বাগেরহাট-২ আসনে বিজয়ের দারপ্রান্তে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ  মদনে ওসির বাসায় ডাকাতি দস্যুতার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। ময়মনসিংহে বিএনপি-৮ জামায়াত-২ ও ১টিতে স্বতন্ত্র বিজয়ী হয়েছেন

জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৯৩ বার

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধিঃ-

 

 

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আদালতের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম ও পানছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় সদস্য আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

 

 

শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী পানছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই বোন নাছিমা বেগম ও হোসনেয়ারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, তাদের মরহুম পিতা হাফেজ আহাম্মদ সাহেবের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা জুলুম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। তারা দুই বোন ও পাঁচ ভাই একই পিতার সন্তান হলেও বর্তমানে সকল ভাই ইন্তেকাল করেছেন।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১১ সালে তাদের দুই বোনের ন্যায্য অংশ হিসেবে মোট ০.১০৫ শতক (সাড়ে দশ শতক) প্রথম শ্রেণির জমি নির্ধারণ করা হলেও তাদের ছোট ভাই কুনা মিয়া এতে আপত্তি জানিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে কুনা মিয়া মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশ মোঃ আবুল কাশেম ও আব্দুল কাদের ওই জমিসহ অন্যান্য পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নেয়।

 

 

তারা আরও জানান, জীবিত অবস্থায় তাদের তিন ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে জমি বণ্টনের আবেদন করলে তৎকালীন পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ইউপি সদস্যদের সহায়তায় জমি বণ্টন করে দেন। তবে সে সিদ্ধান্ত মানেননি কুনা মিয়া।

 

 

পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা খাগড়াছড়ির বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–৫৬/২০১১ দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯ মে ২০১৩ তারিখে আদালত তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে এবং জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের রায় অমান্য করে অভিযুক্তরা জমিটি পুনরায় দখলে রেখে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি পানছড়ি উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলেও কোনো সুরাহা পাননি; বরং অভিযোগের পর হয়রানি আরও বেড়েছে।

এ সময় তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধিঃ-

 

 

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আদালতের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম ও পানছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় সদস্য আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

 

 

শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী পানছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই বোন নাছিমা বেগম ও হোসনেয়ারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, তাদের মরহুম পিতা হাফেজ আহাম্মদ সাহেবের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা জুলুম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। তারা দুই বোন ও পাঁচ ভাই একই পিতার সন্তান হলেও বর্তমানে সকল ভাই ইন্তেকাল করেছেন।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১১ সালে তাদের দুই বোনের ন্যায্য অংশ হিসেবে মোট ০.১০৫ শতক (সাড়ে দশ শতক) প্রথম শ্রেণির জমি নির্ধারণ করা হলেও তাদের ছোট ভাই কুনা মিয়া এতে আপত্তি জানিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে কুনা মিয়া মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশ মোঃ আবুল কাশেম ও আব্দুল কাদের ওই জমিসহ অন্যান্য পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নেয়।

 

 

তারা আরও জানান, জীবিত অবস্থায় তাদের তিন ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে জমি বণ্টনের আবেদন করলে তৎকালীন পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ইউপি সদস্যদের সহায়তায় জমি বণ্টন করে দেন। তবে সে সিদ্ধান্ত মানেননি কুনা মিয়া।

 

 

পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা খাগড়াছড়ির বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–৫৬/২০১১ দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯ মে ২০১৩ তারিখে আদালত তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে এবং জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের রায় অমান্য করে অভিযুক্তরা জমিটি পুনরায় দখলে রেখে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি পানছড়ি উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলেও কোনো সুরাহা পাননি; বরং অভিযোগের পর হয়রানি আরও বেড়েছে।

এ সময় তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান।