ঢাকা , সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক ৩০ বছর পর যে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি ( ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসন) ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৬ (বাঞ্ছারামপুর) বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন জোনায়েদ সাকি। ময়মনসিংহ ১১ভালুকা সংসদীয় আসনে জামানত হারালেন দুই প্রার্থী।  নেত্রকোণা-৫ আসনের ফল বাতিল ও পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ময়মনসিংহ ১০ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী কে ফুলের শুভেচ্ছা।  এমপি নির্বাচিত হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে গেলেন জামায়াতের মাসুদ সাঈদী বাগেরহাট-২ আসনে বিজয়ের দারপ্রান্তে শেখ মনজুরুল হক রাহাদ  মদনে ওসির বাসায় ডাকাতি দস্যুতার মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। ময়মনসিংহে বিএনপি-৮ জামায়াত-২ ও ১টিতে স্বতন্ত্র বিজয়ী হয়েছেন

দিনাজপুর–১ আসনের এমপিদের ইতিহাস: পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী বীরগঞ্জ–কাহারোল

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২২৫ বার

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)

 

দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) সংসদীয় আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বারবার রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে উত্তরাঞ্চলের এই আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামারউদ্দিন আহমেদ দিনাজপুর–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী জামিরুদ্দিন সরকার এমপি নির্বাচিত হন।

 

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মালেক সরকার এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল হক চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আমিনুল ইসলাম এই আসনে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ আহমেদ রেজা হোসেন এমপি নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে একই বছরের জুন মাসে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুর রউফ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর–১ আসনে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কাফি বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন, যা আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

 

এরপর ২০০৫ সালের উপনির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন শীল গোপাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে দীর্ঘ সময়—২০২৪ সাল পর্যন্ত—দিনাজপুর–১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী মো. জাকারিয়া জাকা দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

দীর্ঘ এই রাজনৈতিক যাত্রায় দিনাজপুর–১ আসনটি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি, কখনো জাতীয় পার্টি আবার কখনো জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। ফলে এই আসনটি উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে পরিচিত।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে, ১৫শত পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

দিনাজপুর–১ আসনের এমপিদের ইতিহাস: পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী বীরগঞ্জ–কাহারোল

আপডেট টাইমঃ ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)

 

দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) সংসদীয় আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বারবার রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে উত্তরাঞ্চলের এই আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামারউদ্দিন আহমেদ দিনাজপুর–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী জামিরুদ্দিন সরকার এমপি নির্বাচিত হন।

 

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মালেক সরকার এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল হক চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আমিনুল ইসলাম এই আসনে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ আহমেদ রেজা হোসেন এমপি নির্বাচিত হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে একই বছরের জুন মাসে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আব্দুর রউফ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর–১ আসনে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কাফি বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন, যা আসনটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

 

এরপর ২০০৫ সালের উপনির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন শীল গোপাল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পরবর্তীতে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে দীর্ঘ সময়—২০২৪ সাল পর্যন্ত—দিনাজপুর–১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী মো. জাকারিয়া জাকা দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

দীর্ঘ এই রাজনৈতিক যাত্রায় দিনাজপুর–১ আসনটি কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি, কখনো জাতীয় পার্টি আবার কখনো জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে। ফলে এই আসনটি উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে পরিচিত।