
হাবিবুল ইসলাম
আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ নেন, পরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা পর্যায়ক্রমে শপথ গ্রহণ করেন।
এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন। কে হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য—তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। জানা গেছে, এ বিষয়ে বর্তমান সরকার দ্রুতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এরই প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনা জেলার সর্বস্তরের জনগণ সংরক্ষিত নারী আসনে একজন যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রীকে দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক মেধাবী ছাত্রনেত্রী (ইডেন কলেজ), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জেলা বিএনপি নেত্রকোনা এবং সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সুলতানা রাজিয়া শাওন যেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
সুলতানা রাজিয়া শাওন শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমৃদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত একজন নেত্রী। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে বি.এ. (অনার্স) ও এম.এ. সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া লন্ডনের নর্দামভুইয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন ল’, লিডস ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটিতে এলএলএম অধ্যয়নরত। শিক্ষা, মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি সমৃদ্ধ।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ১/১১–এর কঠিন সময়ে বিএনপির দুঃসময়ে তিনি দৃঢ়ভাবে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং জিয়া পরিবারের পাশে অটল থেকেছেন। কখনো কোনো আপস করেননি, অন্য কোনো দলে সম্পৃক্ত হননি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদের সময় জাহাঙ্গীর গেটে পুলিশি হামলায় সুলতানা রাজিয়া শাওন গুরুতর আহত হন; তার হাতের কব্জি ভেঙে যায়। তবুও তিনি পিছপা হননি। গুলশান কার্যালয়ে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাতেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে পাশে ছিলেন। বিভিন্ন হরতাল ও আন্দোলনে তিনি গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আন্দোলন থেকে এক চুলও সরে দাঁড়াননি।
ঢাকা সিটির প্রতিটি দলীয় কর্মসূচিতে তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার ত্যাগ, নিষ্ঠা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হোক—এটাই নেত্রকোনাবাসীর প্রত্যাশা। তারা বিশ্বাস করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হলে তিনি জাতীয় সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















