পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরে বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২.০১ মিনিটে পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়।জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কে সাথে নিয়ে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন (এমপি),এরপরে পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকালে প্রভাতফেরি সহকারে সর্বস্তরের মানুষ খালি পায়ে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন।
দিবসটি উপলক্ষে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক -সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব এবং বর্তমান প্রজন্মে মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ এর সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক)মোঃ আলাউদ্দিন ভুঁইয়া জনি'র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন (এমপি),বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী(এমপি), পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি,২২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন
অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল জামান ইফতেখার শোভন,তেজদাসকাঠি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান,পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক মুনান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আগামী ১৮০ দিনের জন্য সরকার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ডসহ আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।" তিনি বিগত দেড় বছরে আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তালিকা তৈরি করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা ও এর সাতটি উপজেলায় যে কাজগুলো আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিগত সময়ে দুর্নীতির কারণে পিরোজপুর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমাদের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। উন্নয়নের স্বার্থে কোনো প্রকার অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি সহ্য করা হবে না।" তিনি প্রশাসনকে নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনারা আইন অনুযায়ী কাজ করবেন যাতে পিরোজপুর শহরের অতীতের সকল প্রকার বদনাম আমরা ঘুচিয়ে দিতে পারি। আগামী তিন মাসের মধ্যে আমি এর সুফল দেখতে চাই।"
আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
তিনি বলেন,একুশ আমাদের শিখিয়েছে আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে। আমাদের লক্ষ্য এখন একটাই—শুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া।
আসুন, আজ আমরা শপথ নিই—ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে শুদ্ধ বাংলার চর্চা করব এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে ভূমিকা রাখব।
এছাড়াও তিনি বরিশাল বিভাগের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা,বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগন,সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা পিরোজপুরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগকে পাথেয় করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সম্পাদক - মোঃ মনির হোসেন