
শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদন ৫০ টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা নিষেধাজ্ঞা থাকায় গর্ভবতী ডেলিভারি ও অন্যান্য রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েছে ৫০ টি পরিবার।
রোজ মঙ্গলবার ২৪ মার্চ উপজেলা তিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালি বিন্নি গ্রামে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১৬ ই মার্চ গরু জবাই কে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম( ৬০) ও একই গ্রামের ও জজ(৬৫) এর দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এত দু’পক্ষেরই ৫ জন আহত হয়।
এ ঘটনার পর থেকে নজরুল ইসলাম এর গোষ্ঠীর ৫০টি পরিবারের লোকজনের চলাচলের রাস্তা অবরোধ নিষেধাজ্ঞা করে রাখেন জজ মিয়ার লোকজন মিলে।
এতে বিপাকে পড়েছে প্রসূতি গর্ভবতী মহিলা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও রোগী চিকিৎসা সহ হাট বাজারে যেতে না পেরে
ঘর বন্দী হয়ে পড়েছে ৫০ টি পরিবার।
ঈদের দিন পর্যন্ত এই ৫০টি পরিবার ঈদগাহ মাঠে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারেনি।
এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের নিষেধ করেন একই গ্রামের জজ মিয়া(৬৫) কামাল মিয়া (৫০),এবং জাহাঙ্গীর (৪০), জিয়াউর রহমান (৩৫), বকর মিয়া (৪৫), বিপুল (৩০) সহ তাদের লোকজন মিলে।
এতে করে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে এই ৫০টি পরিবারের লোকজন।
দ্রুত এই ৫০টি পরিবারকে রাস্তা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত না করলে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় থেকে বড় অপ্রীতিকর ঘটনা।
ভুক্তভোগী কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের নজরুল মিয়া বলেন, টুকটাক ঘটনা ঘটলেই আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তাটি নিষেধাজ্ঞা করেন জজ মিয়া সহ তার লোকজন মিলে গত বৎসর তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রাস্তা চলাচলের অনুমোদন দেন।
এই বছর আবার ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন টাকা না দেওয়ার কারণে আমাদের রাস্তা অবরুদ্ধ এবং চলাচলে নিষেধাজ্ঞা করেছে
ডেলিভারি রোগী যেতে দেয়নি ছাত্রছাত্রীরা স্কুল কলেজে যাইতে পারতেছে না।
আমরা খুব কষ্টে আছি। প্রশাসন সহ বিএনপি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ জানান রাস্তাটি চলাচলের জন্য মুক্ত করে দেওয়ার জন্য।
অভিযোগ রয়েছে, কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের একটিমাত্র চলাচলের রাস্তা প্রতিদিন ৫০টি পরিবারের সদস্যরা চলাফেরা করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা এখান দিয়ে যাতায়াত করে। গ্রামের সবাই রাস্তাটি দিয়ে মাঠের যাবতীয় ফসল বাড়িতে আনা-নেয়া করেন।
কিন্তু কাওয়ালি বিন্নি গ্রামের জজ মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন ৮ দিন ধরে যাতায়াতের রাস্তাটি চলাচলের জন্য নিষেধ করেন।
এতে কেউ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নাই। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকা বিপাকে পড়েছে এই ৫০ টি পরিবার।
রাস্তা বন্ধ, চলাচলে নিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে
কাওয়ালী বিন্নি গ্রামের মৃত ওয়াজিদ খার ছেলে জজ মিয়া বলেন, আমরা ঈদের দিন তাদেরকে নামাজ পড়ার জন্য বলেছি তারা যায় নাই,
ডেলিভারি রোগী নিয়ে যাচ্ছে আমরা বাধা দেয়নি।
আমাদের সাথে তাদের ঝগড়া হয়েছে
ঝগড়ার দিন এদিক দিয়ে তারা আসলে মারামারি আরোও বাড়বে।
এরপরে লোকজনে বলেছে এদিকে না আসার জন্য আমরা তাদেরকে যাতায়াতে নিষেধ করিনি।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
মিজ বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, এবিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দৈনিক নেত্রপ্রকাশ 


















