মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ।
নেত্রকোনার মদন পৌরসভা সহ ভিন্ন এলাকা থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা, দুইজন গ্রেপ্তার।
মদন পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে শত শত গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাৎ করে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এনজিও ‘পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থা’র বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার পর দুইজনকে গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনা সদর থানার পুলিশ। এইদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদন ও খালিয়াজুরী সহ মদন পৌরসভা সহ অসহায় গৃহিণীরা এসে এনজিও অফিসটি ঘেরাও করে মদন।
সকলে মিলে বাস রিজার্ভ করে নেত্রকোনা হেড অফিসে যান।
সঞ্চয় গ্রাহক নিতীশ চন্দ্র রায় বাদী হয়ে নেত্রকোনার সদর থানায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নিতীশ চন্দ্র রায় অভিযোগে উল্লেখ করেন, অধিক মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট এবং দৈনিক সঞ্চয় হিসেবে আরও ১০ হাজার ৩০০ টাকা সংগ্রহ করেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
মদন পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের শতাধিক গ্রাহক নারী কাছ থেকে পল্লী বন্ধু উন্নয়ন সংস্থার অফিসের মাঠকর্মী আল জান্নাতুল (তুর্কি) নামের এক মাঠকর্মী কোটি টাকারও ঊর্ধ্বে নিয়ে রাতের আধারে উধাও হয়ে যায়।
এ অর্থ ম্যানেজার মোঃ আল-আমিন খানের নির্দেশে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ অধিক পরিমাণ মুনাফা লোভ দেখিয়ে মদন পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকের কাছ থেকে ডিপিএস, ফিক্সড ডিপোজিট ও দৈনিক সঞ্চয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে গায়েব হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি মদন বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সম্প্রতি গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে গেলে নানা টালবাহানা শুরু হয়।
পরে বৃহস্পতিবার মদন পৌরসভা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা মিলে নেত্রকোনার চকপাড়াস্থ হেড অফিসে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মদন উপজেলা থেকে বাস রিজার্ভ করে ভুক্তভোগীরা নেত্রকোন গিয়ে সংস্থাটির অফিস ঘেরাও করেন।
তারা দাবি করেন, শত শত গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে সংস্থার কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। টাকা ফেরতের দাবিতে তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আমানতের অর্থ উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় নেত্রকোনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল-মামুন সরকার জানান, আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরোও কারা কারা জড়িত আছে এই সংস্থার সাথে তাদেরকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা ঠিক তদন্তাধীন রয়েছে।
সম্পাদক - মোঃ মনির হোসেন