মেহেদী হাসান আরফাত
টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা: ০২ জন আসামীসহ জাল টাকার নোট প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সরঞ্জাম উদ্ধার
সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ২৪ মে ২০২৬ তারিখ টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ লেদা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ জাদিমুরা বাজার এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে জাল টাকার নোট প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট, সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাসহ ০২ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ পূর্বে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন যে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা বাজার সংলগ্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের কোনো একটি স্থানে আসন্ন ঈদ উল আযহাকে সামনে রেখে কোরবানির হাটে বিপণনের জন্য এবং বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহের জন্য বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রস্তুতকৃত জাল নোট দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিগত এক সপ্তাহ যাবৎ জাদিমুরা বাজার সংলগ্ন লেদা ও দমদমিয়া এলাকায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। একই সাথে প্রযুক্তিগত সার্ভেল্যান্সের মাধ্যমে জাল নোট প্রস্তুত ও সরবরাহকারী একটি চক্রকে শনাক্ত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ ও যাচাই বাছাই শেষে অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর নির্দেশক্রমে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক অদ্য ২৪ মে ২০২৬ তারিখ ০৯০০ ঘটিকা হতে বিজিবির একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল জাদিমুরা বাজার, মুচনী বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরবর্তীতে জাল টাকা প্রস্তুতকারী কারখানায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়।
পরবর্তীতে আনুমানিক ১৪০০ ঘটিকায় ০২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি অটোরিকশাযোগে জাল নোট প্রস্তুতকারী কারখানায় আসতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তারা উক্ত স্থান ত্যাগ করে হ্নীলার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় তাদের আটক করার লক্ষ্যে মুচনী বাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। মুচনী বাজারে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দমদমিয়ার দিকে ঘুরে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে বিজিবি’র চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করে এবং জাদিমুরা বাজার এলাকায় তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদলব্ধ তথ্য এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তাদের জাল টাকা তৈরির কারখানার অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে নিম্নবর্ণিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জব্দকৃত মালামালের বিবরণ নিম্নরূপঃ
ল্যাপটপ কম্পিউটার-০১টি,ডেস্কটপ কম্পিউটার-০১টি,কালার প্রিন্টার-০২টি,বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট (২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট),জাল নোট তৈরির কাঁচামাল, জাল টাকা কাটার মেশিন,অটোরিকশা-০১টি।
আটককৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপঃ আজিজুর আহম্মদ, পিতা- আবুল কালাম, মাতা- সামসুর নাহার, এফসিএন নম্বর-২৩১৭৭৪, ২৬ নং জাদিমুরা এফডিএমএন ক্যাম্প, ব্লক- ডি/৩।
নাজমুল (২৭), পিতা- আলা উদ্দীন, মাতা- শারমীন বেগম, গ্রাম- তেরকান্দা, পোস্ট- নোয়াগাঁও, থানা- সরাইল, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
বিজিবি’র আভিযানিক দলের তাৎক্ষণিক, দক্ষ ও কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা টেকনাফ ব্যাটালিয়নের পেশাদারিত্ব, তৎপরতা এবং কার্যকর গোয়েন্দা সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
আটককৃত ব্যক্তি এবং জব্দকৃত মালামালের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক - মোঃ মনির হোসেন