ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন।  সৌদি আরব নাজরানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ১২ জন প্রবাসী গ্রেপ্তার। সাবরাং জিরো পয়েন্টে ২৭কেজি গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারিকে আটক যারা লড়াই করতে যানে মানুষের অধিকার আদায় করতে যানে আমি সেই দলের মানুষ” অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন  পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সুদের খাঁচায় বন্দি, ঘুষের টেবিলে জিম্মি: হসপিটালের ফ্লোরে আর্তনাদ করছে অবহেলিত মানুষ মানবতার দুর্গ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন উপহার খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি। সৌদি আরব এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী ৭,৭৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমাকান্দায় ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল উদ্বোধন 

গফরগাঁওয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল: বাধা দেওয়ায় কৃষকদের হুমকি

গফরগাঁওয় প্রতিনিধি 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নে ফসলি জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহল। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে কৃষি কাজ এবং হুমকিতে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। ফসলের এই ক্ষতি দেখে জমির মালিকেরা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাঁদের প্রাণনাশের ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা নদীর পাড় চর এলাকায় বেশ কিছু ফসলি জমি লক্ষ্য করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ওই স্বার্থান্বেষী মহল। জমির মালিকদের কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে ভ্যাকু ও ড্রাম ট্রাক এবং দড়ি ট্রাক দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি তিন চার ফিট গর্ত করে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, মাটি কাটার ফলে পাশের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক চাষির আয়ের একমাত্র উৎস এই কৃষিজমি। নিজেদের জমি রক্ষা করতে যখন তাঁরা সিন্ডিকেটের সদস্যদের বাধা দিতে যান, তখন তাঁদের চরম হেনস্তা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জমির মালিক জানান:
“আমাদের না জানিয়েই জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা বাধা দিলে তারা বুক ফুলিয়ে বলে—’বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোদের দেখে নেওয়া হবে, এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না’। আমরা এখন নিজেদের জমিতে যেতেও ভয় পাচ্ছি।”

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির ওপরের অংশ বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নিলে জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে আগামী কয়েক বছর ওই জমিতে কোনো ভালো ফলন আশা করা যায় না। ফলে একদিকে কৃষকেরা তাঁদের অধিকার হারাচ্ছেন, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে এবং অসহায় কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত অভিযান চালানো উচিত।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী কৃষকেরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন। 

গফরগাঁওয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল: বাধা দেওয়ায় কৃষকদের হুমকি

আপডেট টাইমঃ ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

গফরগাঁওয় প্রতিনিধি 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নে ফসলি জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহল। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে কৃষি কাজ এবং হুমকিতে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। ফসলের এই ক্ষতি দেখে জমির মালিকেরা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাঁদের প্রাণনাশের ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা নদীর পাড় চর এলাকায় বেশ কিছু ফসলি জমি লক্ষ্য করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে ওই স্বার্থান্বেষী মহল। জমির মালিকদের কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে দিন-দুপুরে ভ্যাকু ও ড্রাম ট্রাক এবং দড়ি ট্রাক দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি তিন চার ফিট গর্ত করে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, মাটি কাটার ফলে পাশের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক চাষির আয়ের একমাত্র উৎস এই কৃষিজমি। নিজেদের জমি রক্ষা করতে যখন তাঁরা সিন্ডিকেটের সদস্যদের বাধা দিতে যান, তখন তাঁদের চরম হেনস্তা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জমির মালিক জানান:
“আমাদের না জানিয়েই জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা বাধা দিলে তারা বুক ফুলিয়ে বলে—’বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোদের দেখে নেওয়া হবে, এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না’। আমরা এখন নিজেদের জমিতে যেতেও ভয় পাচ্ছি।”

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসলি জমির ওপরের অংশ বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নিলে জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এতে আগামী কয়েক বছর ওই জমিতে কোনো ভালো ফলন আশা করা যায় না। ফলে একদিকে কৃষকেরা তাঁদের অধিকার হারাচ্ছেন, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে এবং অসহায় কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত অভিযান চালানো উচিত।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী কৃষকেরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।