কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে দূর হলো অন্ধকার, জেনারেটর চালুর দাবি প্রেসক্লাব সভাপতির
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির উদ্যোগে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার (৭ জুন) দুপুরে সোলার ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
জানা গেছে, হাসপাতালের সোলার প্যানেল দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকত। এতে রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের নেবুলাইজার সেবা প্রদান, জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা এবং রাতের বেলায় হাসপাতালে নিরাপদ চলাচলে নানা সমস্যা দেখা দিত।
হাসপাতালে কার্যকর জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প উৎস হিসেবে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাই প্রধান ভরসা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সোলার প্যানেল অচল থাকায় স্বাস্থ্যসেবার মানও ব্যাহত হচ্ছিল।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে পুনরায় চালু করা হয় সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
উদ্বোধনকালে উপস্থিত রোগী ও স্বজনরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সোলার ব্যবস্থা সচল হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো সচল রাখা সহজ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সোলার ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অকেজো ছিল। মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির আন্তরিক উদ্যোগে সেটি সংস্কার ও পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে এবং রোগীরা আরও ভালো সেবা পাবেন।”
কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, “হাসপাতালের সোলার প্যানেল দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল এলাকায় অন্ধকার নেমে আসত। এতে রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম ভোগান্তিতে পড়তেন। মাননীয় ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে সোলার ব্যবস্থা পুনরায় চালু হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি কার্যকর জেনারেটর চালুর দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি বিভাগ, প্রসূতি সেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রাখতে জেনারেটর অত্যন্ত প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, সোলার ব্যবস্থা সচল হওয়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেটর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
সম্পাদক - মোঃ মনির হোসেন