ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন।  সৌদি আরব নাজরানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ১২ জন প্রবাসী গ্রেপ্তার। সাবরাং জিরো পয়েন্টে ২৭কেজি গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারিকে আটক যারা লড়াই করতে যানে মানুষের অধিকার আদায় করতে যানে আমি সেই দলের মানুষ” অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন  পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সুদের খাঁচায় বন্দি, ঘুষের টেবিলে জিম্মি: হসপিটালের ফ্লোরে আর্তনাদ করছে অবহেলিত মানুষ মানবতার দুর্গ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন উপহার খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি। সৌদি আরব এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী ৭,৭৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমাকান্দায় ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল উদ্বোধন 

টেকনাফে প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার, গ্রেপ্তার- ৩ জন পলাতক-১ জন

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪১৬ বার

মেহেদী হাসান আরফাত, টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ পাচারকারীদের গ্রেপ্তার

 

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। বিজিবি সব সময়ই সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়, পূর্ববর্তী একটি সফল মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সূত্র ধরে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) একটি দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যের চালানসহ তিন জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সাফল্য বিজিবির মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় যে, বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মায়ানমারের কিছু মাদক কারবারির সঙ্গে যোগসাজশে মাছ ধরার আড়ালে নাফ নদী ব্যবহার করে একটি বড় মাদকের চালান পাচারের চেষ্টা করবে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি, একটি বিশেষ অপারেশন পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, আজ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের নেতৃত্বে নাজিরপাড়া বিওপি এলাকায় কয়েকটি নৌ-টহলের মাধ্যমে নাফ নদীতে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময়, মিয়ানমারের মুংডু খাল থেকে একটি সন্দেহজনক জেলে নৌকা নাফ নদীর শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবির নৌ-টহল নাফ নদীতে তাদের ধাওয়া করলে পাচারকারীরা দ্রুত কেওড়া বাগানের দিকে অগ্রসর হলে বিজিবির চৌকস দলগুলো তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশি করার পর মাছ ধরার জালের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষভাবে মোড়কজাত ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে নৌকায় থাকা ঐ তিনজন জেলেকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মায়ানমার থেকে আনা মাদকের চালানটি বাংলাদেশের ইমান আলী নামে এক চোরাকারবারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০,০০০ টাকা চুক্তিতে কাজ করছিল। চালানটি হস্তান্তরের আগেই তারা বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। মাদক পাচারের মূল হোতা ইমান আলীকে গ্রেপ্তারে বিজিবির অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামীদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের পরিচয় নিচে প্রদত্ত হলোঃ

ধৃত আসামী
আব্দুল্লাহ (৩০), পিতাঃ নজির আহমেদ।
মোঃ জহির আহমেদ (৫০), পিতাঃ হাবিবুর রহমান।
মোঃ কেফায়েত উল্লাহ (১৮), পিতাঃ নজির আহমেদ।
সকলের ঠিকানা: গ্রাম-উত্তর নাজিরপাড়া, (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড), ডাকঘর- টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

পলাতক আসামী
ইমাম হোসেন (৩০), পিড়া-গুরা মিয়া, গ্রাম-উত্তর নাজিরপাড়া, (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড), ডাকঘর- টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

 

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ ও অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন। 

টেকনাফে প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার, গ্রেপ্তার- ৩ জন পলাতক-১ জন

আপডেট টাইমঃ ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মেহেদী হাসান আরফাত, টেকনাফ প্রতিনিধি:

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ পাচারকারীদের গ্রেপ্তার

 

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী। বিজিবি সব সময়ই সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়, পূর্ববর্তী একটি সফল মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সূত্র ধরে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) একটি দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আজ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যের চালানসহ তিন জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সাফল্য বিজিবির মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায় যে, বাংলাদেশের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মায়ানমারের কিছু মাদক কারবারির সঙ্গে যোগসাজশে মাছ ধরার আড়ালে নাফ নদী ব্যবহার করে একটি বড় মাদকের চালান পাচারের চেষ্টা করবে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি, একটি বিশেষ অপারেশন পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, আজ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের নেতৃত্বে নাজিরপাড়া বিওপি এলাকায় কয়েকটি নৌ-টহলের মাধ্যমে নাফ নদীতে একটি সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময়, মিয়ানমারের মুংডু খাল থেকে একটি সন্দেহজনক জেলে নৌকা নাফ নদীর শূন্য রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবির নৌ-টহল নাফ নদীতে তাদের ধাওয়া করলে পাচারকারীরা দ্রুত কেওড়া বাগানের দিকে অগ্রসর হলে বিজিবির চৌকস দলগুলো তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশি করার পর মাছ ধরার জালের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষভাবে মোড়কজাত ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে নৌকায় থাকা ঐ তিনজন জেলেকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মায়ানমার থেকে আনা মাদকের চালানটি বাংলাদেশের ইমান আলী নামে এক চোরাকারবারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩০,০০০ টাকা চুক্তিতে কাজ করছিল। চালানটি হস্তান্তরের আগেই তারা বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। মাদক পাচারের মূল হোতা ইমান আলীকে গ্রেপ্তারে বিজিবির অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামীদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের পরিচয় নিচে প্রদত্ত হলোঃ

ধৃত আসামী
আব্দুল্লাহ (৩০), পিতাঃ নজির আহমেদ।
মোঃ জহির আহমেদ (৫০), পিতাঃ হাবিবুর রহমান।
মোঃ কেফায়েত উল্লাহ (১৮), পিতাঃ নজির আহমেদ।
সকলের ঠিকানা: গ্রাম-উত্তর নাজিরপাড়া, (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড), ডাকঘর- টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

পলাতক আসামী
ইমাম হোসেন (৩০), পিড়া-গুরা মিয়া, গ্রাম-উত্তর নাজিরপাড়া, (টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড), ডাকঘর- টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

 

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ ও অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।