
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চর-চিংগড়ী গ্রামে রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বড়বাড়িয়া বাজার থেকে ফেরার পথে কলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক রসুল শেখ ও তার সঙ্গে থাকা ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রসুল শেখ, যিনি স্থানীয়ভাবে কলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত, এবং তার সঙ্গে থাকা ভ্যানচালক কবির শেখ (পিতা: মোক্তাদীর শেখ)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়বাড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চর-চিংগড়ী গ্রামের কাছে রসুল শেখের ওপর একদল লোক অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে এবং সঙ্গে থাকা ভ্যানচালককেও মারধর করে আহত করে।
রসুল শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে পরিবার জানায়।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কলাতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা শেখের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গ্রুপ এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, “রসুল শেখ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।”
তারা আরও বলেন, “বড়বাড়িয়া বাজার থেকে ফেরার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।”
হামলাকারী সন্ত্রাসীরা হলেন:
১. বাদশা শেখ (পিতা: সালাম শেখ)
২. আলামিন (পিতা: আসাদ শেখ)
৩. অলি (পিতা: জোনাবালি শেখ)
৪. রুহুল (পিতা: খলিল শেখ)
৫. হাবিল (পিতা: কিবরিয়া)
৬. আরিফ (পিতা: কিবরিয়া)
৭. জুয়েল (পিতা: মুনসুর শেখ)
৮. হাফিজুর ও সাইফুল (পিতা: জব্বর শেখ)
৯. রুবেল (পিতা: আকরাম মোল্লা)
১০. সাগর (পিতা: বাদশা শেখ)
১১. রমজান (পিতা: সাম শেখ)
এছাড়াও আরও অজ্ঞাত ১০-১২ জন হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বাদশা শেখ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দালাল, তার বিরুদ্ধে গুম, খুন, চাঁদাবাজি সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়নে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আরও বলেন, “দুই দলের মধ্যে নানা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। হামলার ঘটনাটি সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই অংশ হতে পারে।”
তবে স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে চান না।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
> “আমরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
> “আমাদের মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক রসুল শেখের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
ঘটনার সময় ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন চলছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই লকডাউনকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা প্রতিপক্ষদের ওপর হামলার সুযোগ নিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















