
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে টেকনাফে মাদকবিরোধী যুদ্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান : বিশেষ অভিযানে নাফ নদী থেকে বিপুল ইয়াবাসহ পাচারকারী আটক।
দীর্ঘদিন ধরে নাফ নদী ও এর তীরবর্তী অঞ্চলে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারের যে বিষদাঁত গড়ে উঠেছিল তা ভেঙে দিয়ে টেকনাফকে সুরক্ষিত করতে ২ বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যার ধারাবাহিকতায়, গত ১৪৪ ঘন্টায় সর্বমোট ০৬টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ৪,৪১,৯২০ (চার লক্ষ একচল্লিশ হাজার নয়শত বিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ জন আসামী আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।
গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ আনুমানিক রাত ২১৩০ ঘটিকায়, চারদিকে যখন গাঢ় অন্ধকার, ঠিক তখনই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চোখে মায়ানমার থেকে
দুই জনকে নাফ নদী দিয়ে সন্দেহজনকভাবে
সাঁতরে আসতে সনাক্ত করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে সীমান্তে মোতায়েন বিজিবির আভিযানিক দল অত্যাধুনিক নৌযানগুলো নিয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে অ্যাকশনে যায়। এসময়, নদী দিয়ে চোরাকারবারীরা সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় বিজিবি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের কাছে থাকা দুইটি পলিথিন প্যাকেট পানিতে ভাসিয়ে তারা ডুব সাঁতার দিয়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে সাঁতরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে, অভিযানিক দল মাদক কারবারিদের ফেলে যাওয়া পলিথিনের ব্যাগ পানি থেকে উদ্ধার করে অভিনব পদ্ধতিতে মোড়ানো ৫৭,৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।
পরবর্তীতে, ২৪ নভেম্বর গভীর রাতে, নিজস্ব গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পরিকল্পনায় সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ২ বিজিবির কৌশলগত আভিযানিক দল মোতায়েন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার সময় (আনুমানিক ০৬০০ ঘটিকায়) দমদমিয়া ও বড়ইতলীর বিপরীতে নাফ নদীর গভীর অংশ দিয়ে চুপিসারে মায়ানমার থেকে একটি নৌকা জেলের ছদ্মবেশে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হলে কৌশগত অবস্থানে থাকা ২ বিজিবি’র নৌ-টহল দলগুলো নৌকাটি ঘিরে ফেলে। নৌকাটি তল্লাশি করে বিজিবি সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করে। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক এই অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০১ জন আসামীকে আটক করা গেলেও নৌকায় থাকা অপর তিন মাদককারবারি সীমান্ত দিয়ে সাঁতরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে, লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি টেকনাফ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সকল ধরনের অপরাধ দমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবে। মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বদ্ধপরিকর।
আটককৃত আসামী ও মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















