
নিজস্ব প্রতিবেদক
নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে উদ্বেগজনক একটি চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেখা যাচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী চক্র নিজেদের ব্যক্তিগত বিরোধ, পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিহিংসামূলক মনোভাব চরিতার্থ করতে রাজনীতিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে সামনে রেখে তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করছে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে।
রাজনীতির নামে এসব ব্যক্তি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার নিয়ে চরম অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। রাজনীতিকে জনসেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করায় প্রকৃত ত্যাগী ও সৎ রাজনীতিকরাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি শুধু ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পুরো সমাজব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বিষাক্ত করে তুলছে। রাজনীতি যেখানে হওয়ার কথা ছিল মানুষের অধিকার আদায়, উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যম—সেখানে তা আজ ক্ষমতার দাপট, ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আত্মশুদ্ধি, দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতিকে জনকল্যাণমুখী করা। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে রাজনীতির নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। তা না হলে এই প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির কুফল ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে—যার মাশুল দিতে হবে পুরো জাতিকে।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















