ঢাকা , শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন পুড়ে ছাই তিনটি গরু  পানছড়িতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ মাই জিপিএস ট্রাকিং সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় ফ্রাঞ্চাইজিস স্টোর এর শুভ উদ্ভোধন গফরগাঁওয়ে বিএনপি’র দলীয় ও সতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ গুলি বর্ষণের অভিযোগ আহত-১০ গোমস্তাপুর উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন ১১ প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু বৃহস্পতিবার থেকে পানছড়িতে ৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা: মাদ্রাসা ও অসহায় পরিবারের মাঝে সোলার প্যানেল, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান কলমাকান্দার আলোচিত ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলি

জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪১ বার

পানছড়ি (খাগড়াড়ি) প্রতিনিধিঃ-

 

 

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আদালতের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম ও পানছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় সদস্য আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

 

 

শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী পানছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই বোন নাছিমা বেগম ও হোসনেয়ারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, তাদের মরহুম পিতা হাফেজ আহাম্মদ সাহেবের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা জুলুম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। তারা দুই বোন ও পাঁচ ভাই একই পিতার সন্তান হলেও বর্তমানে সকল ভাই ইন্তেকাল করেছেন।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১১ সালে তাদের দুই বোনের ন্যায্য অংশ হিসেবে মোট ০.১০৫ শতক (সাড়ে দশ শতক) প্রথম শ্রেণির জমি নির্ধারণ করা হলেও তাদের ছোট ভাই কুনা মিয়া এতে আপত্তি জানিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে কুনা মিয়া মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশ মোঃ আবুল কাশেম ও আব্দুল কাদের ওই জমিসহ অন্যান্য পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নেয়।

 

 

তারা আরও জানান, জীবিত অবস্থায় তাদের তিন ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে জমি বণ্টনের আবেদন করলে তৎকালীন পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ইউপি সদস্যদের সহায়তায় জমি বণ্টন করে দেন। তবে সে সিদ্ধান্ত মানেননি কুনা মিয়া।

 

 

পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা খাগড়াছড়ির বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–৫৬/২০১১ দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯ মে ২০১৩ তারিখে আদালত তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে এবং জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের রায় অমান্য করে অভিযুক্তরা জমিটি পুনরায় দখলে রেখে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি পানছড়ি উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলেও কোনো সুরাহা পাননি; বরং অভিযোগের পর হয়রানি আরও বেড়েছে। তবে সংগঠনটির সভাপতি জাকির হোসেন সমস্যাটি সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে স্বীকার করেন অভিযোগকারীরা।

 

 

এ সময় তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর রাতে গোয়ালঘরে আগুন পুড়ে ছাই তিনটি গরু 

জামায়েত ইসলামী নেতার বিরুদ্ধে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

পানছড়ি (খাগড়াড়ি) প্রতিনিধিঃ-

 

 

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আদালতের চূড়ান্ত রায় অমান্য করে দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম ও পানছড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের সক্রিয় সদস্য আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে।

 

 

শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী পানছড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই বোন নাছিমা বেগম ও হোসনেয়ারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, তাদের মরহুম পিতা হাফেজ আহাম্মদ সাহেবের রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা জুলুম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। তারা দুই বোন ও পাঁচ ভাই একই পিতার সন্তান হলেও বর্তমানে সকল ভাই ইন্তেকাল করেছেন।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১১ সালে তাদের দুই বোনের ন্যায্য অংশ হিসেবে মোট ০.১০৫ শতক (সাড়ে দশ শতক) প্রথম শ্রেণির জমি নির্ধারণ করা হলেও তাদের ছোট ভাই কুনা মিয়া এতে আপত্তি জানিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে কুনা মিয়া মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশ মোঃ আবুল কাশেম ও আব্দুল কাদের ওই জমিসহ অন্যান্য পৈত্রিক সম্পত্তি দখলে নেয়।

 

 

তারা আরও জানান, জীবিত অবস্থায় তাদের তিন ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে জমি বণ্টনের আবেদন করলে তৎকালীন পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ইউপি সদস্যদের সহায়তায় জমি বণ্টন করে দেন। তবে সে সিদ্ধান্ত মানেননি কুনা মিয়া।

 

 

পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা খাগড়াছড়ির বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–৫৬/২০১১ দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯ মে ২০১৩ তারিখে আদালত তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে এবং জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের রায় অমান্য করে অভিযুক্তরা জমিটি পুনরায় দখলে রেখে অন্যত্র বিক্রি করে দেন।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদালতের রায় বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার দাবি করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি পানছড়ি উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে অবগত করা হলেও কোনো সুরাহা পাননি; বরং অভিযোগের পর হয়রানি আরও বেড়েছে। তবে সংগঠনটির সভাপতি জাকির হোসেন সমস্যাটি সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে স্বীকার করেন অভিযোগকারীরা।

 

 

এ সময় তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, পৈত্রিক সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা বিষয়টি দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান।