
মোঃ মুনিরুল ইসলাম,
স্টাফ রিপোর্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত জয়ীতা কঞ্জুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড–এ টাকা জমা রেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বহু গ্রাহক। বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করায় অভিযুক্ত মামুন ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, বৈধতা, কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
১. প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য
প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন নম্বর: ২২.০১.২০২০.৪৪ ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও—
কোন দপ্তর থেকে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে
নিবন্ধনটি বর্তমানে বৈধ ও নবায়নকৃত কি না
—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হলে এটি সমবায় অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত হওয়ার কথা, তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ে স্বচ্ছ তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
২. প্রতিষ্ঠানটির কার্যপরিধি
প্রচার ও গ্রাহক সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে আঞ্চলিক পর্যায়ের এনজিও/সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিলেও—
জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার কোনো অনুমোদন আছে কি না
একাধিক জেলায় টাকা সংগ্রহের বৈধতা ছিল কি না
—সে বিষয়ে কোনো সরকারি নথি প্রকাশ করা হয়নি।
৩. কার্যক্রমের সময়কাল
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী—
প্রতিষ্ঠানটি আনুমানিক ২০২০ সালের পর থেকে কার্যক্রম শুরু করে
প্রথমদিকে নিয়মিত মুনাফা প্রদান করা হলেও
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অকার্যকর/স্থগিত অবস্থায় রয়েছে
অফিসে তালা ঝুলছে, কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত নেই।
৪. ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
একাধিক প্রতারিত গ্রাহক সাংবাদিকদের জানান—
“আমরা বিশ্বাস করে টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন টাকা চাইলে ফোন ধরছে না, উল্টো ভয় দেখানো হচ্ছে।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন—
“সাংবাদিকের কাছে কথা বলেছি জানার পর মামুন আর তার মা ফোন দিয়ে বলে—
‘সাংবাদিক কি তোদের টাকা তুলে দিতে পারবে?’—এই বলে হুমকি দেয়।”
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী,
👉 মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক কোটি টাকা (প্রায় ৪ কোটি টাকা)।
৫. অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুন বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বা মৌখিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ফোনে যোগাযোগ করলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
৬. অডিট রিপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য
অনুসন্ধানে দেখা গেছে—
গত কয়েক বছরের কোনো অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি গ্রাহকদের কাছে অডিট সংক্রান্ত নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি অডিট ছাড়া দীর্ঘদিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হলে তা সমবায় ও আর্থিক বিধিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭. সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য
এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তারা জানান—
“লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তবে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জয়ীতা এনজিওর নিবন্ধন, কার্যক্রম, অডিট ও তদারকির ঘাটতি একটি বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহি এবং জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্কঃ 


















