ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কেন্দুয়া উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ভোলাহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত!  ফাতেমা নগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এস এস সি পরিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা  মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সরকারি ডিউটি ফেলে ক্লিনিকে রোগী দেখছেন ডা. অদিত্য পোদ্দার টেকনাফে লেঙ্গুরবিল এলাকায় নৌবাহিনীর অভিযানে ৩৬০০ পিস ইয়াবাসহ ১টি প্রাইভেট কার জব্দ। টেকনাফে পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাজা পরোয়ানার পলাতকসহ ২২ আসামী গ্রেফতার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন বড় ডেইল এলাকায় কক্সবাজারগামী গাড়িতে আগুন। ইমামের মেয়ের ‘অপহরণ নাটক’ নাকি পরিকল্পিত বিভ্রান্তি? সত্য উদঘাটনে নতুন মোড় মদনে সঠিক সময়ে অফিসে আসেনি ৫ অফিসার মানছেনা সরকারি আদেশ। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, নেত্রকোণা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন

পুরোনো বই চুরির ঘটনায় মামলা, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে ক্ষোভ

মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল, 

পূর্বধলা নেত্রকোনা প্রতিনিধি

 

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোছাইনিয়া ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় পুরোনো বিনামূল্যের পাঠ্যবই চুরির ঘটনায় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হলেও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে। মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬৫০টি পুরোনো বই চুরির চেষ্টা চলাকালে নৈশপ্রহরী সবুজ মিয়ার সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদরাসার এমএলএসএস মো. আশরাফুল আলম (৪৮) ও মাকছুদ আলম (৫০) পালিয়ে গেলেও পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঘটনার সময় মাদরাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। উপাধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। একাধিক সূত্র জানায়, শিক্ষকরা পুলিশকে জানিয়েছেন, অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত নন।

 

পরদিন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান প্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে স্টাফদের নিয়ে সভা করে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ১৫ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন ছাড়াও আরও দুইজন—এমএলএসএস আ. ছালাম ও অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী ও সচেতন মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও মামলার কয়েকজন সাক্ষী জানান, অভিযুক্ত আ. ছালাম ও আশরাফুজ্জামান আকন্দ ঘটনার সময় মাদরাসায় উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাদের পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

 

জানা গেছে, ২০১৮ সালে মাদরাসার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দ বাদী হয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ কারাবরণ ও সাময়িক বরখাস্ত হন। অনেকের ধারণা, পুরোনো বিরোধের জের ধরেই নতুন মামলায় অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান বলেন, “অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দ চাবি দিয়ে দুইজন এমএলএসএসকে সহায়তা করেছে। বিস্তারিত সাক্ষাতে জানাব।”

 

পূর্বধলা থানার ওসি মো. দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, “মাদরাসা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কেন্দুয়া উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

পুরোনো বই চুরির ঘটনায় মামলা, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে ক্ষোভ

আপডেট টাইমঃ ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

মো. আমিনুল ইসলাম মন্ডল, 

পূর্বধলা নেত্রকোনা প্রতিনিধি

 

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোছাইনিয়া ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় পুরোনো বিনামূল্যের পাঠ্যবই চুরির ঘটনায় দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হলেও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে। মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬৫০টি পুরোনো বই চুরির চেষ্টা চলাকালে নৈশপ্রহরী সবুজ মিয়ার সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদরাসার এমএলএসএস মো. আশরাফুল আলম (৪৮) ও মাকছুদ আলম (৫০) পালিয়ে গেলেও পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঘটনার সময় মাদরাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। উপাধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। একাধিক সূত্র জানায়, শিক্ষকরা পুলিশকে জানিয়েছেন, অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত নন।

 

পরদিন অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান প্রতিষ্ঠানে ফিরে এসে স্টাফদের নিয়ে সভা করে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ১৫ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন ছাড়াও আরও দুইজন—এমএলএসএস আ. ছালাম ও অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী ও সচেতন মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও মামলার কয়েকজন সাক্ষী জানান, অভিযুক্ত আ. ছালাম ও আশরাফুজ্জামান আকন্দ ঘটনার সময় মাদরাসায় উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাদের পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

 

জানা গেছে, ২০১৮ সালে মাদরাসার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দ বাদী হয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ কারাবরণ ও সাময়িক বরখাস্ত হন। অনেকের ধারণা, পুরোনো বিরোধের জের ধরেই নতুন মামলায় অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান খান বলেন, “অফিস সহকারী আশরাফুজ্জামান আকন্দ চাবি দিয়ে দুইজন এমএলএসএসকে সহায়তা করেছে। বিস্তারিত সাক্ষাতে জানাব।”

 

পূর্বধলা থানার ওসি মো. দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, “মাদরাসা কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”