ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইয়েমেনের জন্য ১.৯ বিলিয়ন রিয়াল মূল্যের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ অফার করেছে সৌদি আরব। ভোলাহাটে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোলাহাট প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের কম্বল বিতরণ! বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত বীরগঞ্জ গড়তে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। পিরোজপুরে শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপ–২০২৫ বাঞ্ছারামপুর ইউএনও’র আকস্মিক মৃত্যু।  বাঞ্ছারামপুর ইউএনও’র আকস্মিক মৃত্যু।  ফরিদপুরের আটরশিতে চার দিনব্যাপী বিশ্ব উরস শরীফ শুরু  নেত্রকোনা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাসুম মোস্তফার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা খাগড়াছড়ির ২০৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ পানছড়িতে বিজিবির জনকল্যাণ কার্যক্রম জোরদার—শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা পেল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।

আটপাড়ায় ফেসবুক পোস্টের পর তরুণের আত্মহত্যা, এলাকায় শোকের ছায়া

হাবিবুল ইসলাম
আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) ফজরের নামাজের পর স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান।
নিহত তরুণের নাম মাহিবুর রহমান (৩২)। তিনি বানিয়াজান ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আঃ রহিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত মানসিক চাপ ও হতাশায় ভুগছিলেন। আত্মহত্যার আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টগুলোতে নিজের ভালোবাসা, পারিবারিক চাপ, সামাজিক অবিশ্বাস ও মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেন তিনি। তার লেখাগুলোতে চরম হতাশা ও একাকিত্বের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
ফজরের নামাজ শেষে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহিবুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, মাহিবুর রহমান স্বভাবতই শান্ত ও ভদ্র প্রকৃতির ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও চিন্তাগ্রস্ত দেখা যাচ্ছিল। পরিবারের ধারণা, সম্পর্কজনিত জটিলতা ও সামাজিক চাপই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মির্জাপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখেমুখে গভীর বিষাদের ছাপ দেখা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিহতের ফেসবুক পোস্ট, পারিবারিক অবস্থা ও সামাজিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সামাজিক চাপে তরুণদের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সংকটময় সময়ে পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল ভূমিকা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনের জন্য ১.৯ বিলিয়ন রিয়াল মূল্যের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ অফার করেছে সৌদি আরব।

আটপাড়ায় ফেসবুক পোস্টের পর তরুণের আত্মহত্যা, এলাকায় শোকের ছায়া

আপডেট টাইমঃ ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

হাবিবুল ইসলাম
আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) ফজরের নামাজের পর স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান।
নিহত তরুণের নাম মাহিবুর রহমান (৩২)। তিনি বানিয়াজান ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আঃ রহিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত মানসিক চাপ ও হতাশায় ভুগছিলেন। আত্মহত্যার আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টগুলোতে নিজের ভালোবাসা, পারিবারিক চাপ, সামাজিক অবিশ্বাস ও মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেন তিনি। তার লেখাগুলোতে চরম হতাশা ও একাকিত্বের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।
ফজরের নামাজ শেষে গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহিবুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, মাহিবুর রহমান স্বভাবতই শান্ত ও ভদ্র প্রকৃতির ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও চিন্তাগ্রস্ত দেখা যাচ্ছিল। পরিবারের ধারণা, সম্পর্কজনিত জটিলতা ও সামাজিক চাপই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মির্জাপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখেমুখে গভীর বিষাদের ছাপ দেখা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে নিহতের ফেসবুক পোস্ট, পারিবারিক অবস্থা ও সামাজিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সামাজিক চাপে তরুণদের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সংকটময় সময়ে পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল ভূমিকা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।