
নেত্রকোনা সদর প্রতিনিধি, মনিরুল ইসলাম
৯ম জাতীয় পে-স্কেল কোনো অনিশ্চিত প্রস্তাব ছিল না—এটি ছিল গেজেটভুক্ত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালের নভেম্বরে গেজেট প্রকাশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকরের ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছিল, বিষয়টি আর বিতর্কের নয়। অথচ আজও সেই পে-স্কেল আলোর মুখ দেখেনি। প্রশ্ন একটাই—কেন?
এই বিলম্ব প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। মানুষের ন্যায্য বেতনকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে নির্বাচনের মাঠে ‘ট্রাম্প কার্ড’ বানানোর যে নোংরা রাজনীতি, সেটাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির মহাসচিবসহ অর্থ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ একটি বলয় সমন্বিতভাবে এই প্রক্রিয়াকে জিম্মি করে রেখেছে।
বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই—আগামী নির্বাচনের পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তাদেরকেই ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন করে ঘোষণা, আশ্বাস কিংবা নাটক করার কিছু নেই। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়—এই দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে যে কষ্টে রাখা হলো, তার দায় কে নেবে?
বেতন কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়, এটি একটি অধিকার। সেই অধিকার নিয়ে দরকষাকষি করা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার চরম অবক্ষয়েরই নামান্তর। যারা মানুষের জীবনের মৌলিক নিরাপত্তাকে ভোটের হিসাবের খাতায় ফেলে রেখেছে, তারা গণতন্ত্রের মুখোশে দাঁড়িয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পে-স্কেলের গল্প নয়—এটি রাজনীতির চরিত্রের প্রশ্ন। জনগণ সব দেখছে, সব বোঝে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, মানুষের অধিকার নিয়ে রাজনীতি করলে তার জবাব একদিন না একদিন দিতেই হয়।

অনলাইন ডেস্কঃ 


















