ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
২ নং চানগাঁও ইউনিয়ন বাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। কুমিল্লায় ‘বন্ধুত্ব ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’র নতুন জেলা কমিটি গঠন কেন্দুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে আবু সাদেক ভুইয়ার প্রাণহানি। বীরগঞ্জে শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা প্রধান সম্মাননা পেলেন মাওলানা হযরত আলী শ্রীপুরে  শতাধিক আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান মদনে টাকা ও অলংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী: থানায় অভিযোগ নেত্রকোনায় জ্বালানি তেল মজুদ কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের যুদ্ধ ঘোষণা। যুবদল সভাপতি আব্দুস সালাম তালুকদারের রুহে মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।  বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য অনুসন্ধান ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন 

দিরাইয়ে পিআইও’র বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ।

তৌফিকুর রহমান তাহের সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি,

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মির্জা মোঃ আবু ছাইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন ছাড়া কোনো প্রকল্পের বিল অনুমোদন করা হয় না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় দিরাই উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ৮৮.৮৬৩৮ মেট্রিক টন চাল ও সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির অর্থ থেকে ৬১টি কাবিটা ও ২৪টি কাবিখা প্রকল্প এবং দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ থেকে ৬০টি টিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪৫টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিসি ঢালাই কাজের মান ও পরিমাপে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ ৮ ফুট ও ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রকল্পে তা মানা হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। এছাড়া মাস্টাররোল ও স্ট্যাম্প বাবদ অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয়। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা সম্ভব হয় না।

রাজানগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও এক প্রকল্প সভাপতি ডলি রানী বলেন, “প্রকল্পের টাকা থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়েছে।”

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও মির্জা মোঃ আবু ছাইদ বলেন, “যারা অভিযোগ করছেন, তাদের নিয়ে অফিসে আসুন। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, তাঁর দপ্তরে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

 

উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

২ নং চানগাঁও ইউনিয়ন বাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক

দিরাইয়ে পিআইও’র বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ।

আপডেট টাইমঃ ১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি,

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মির্জা মোঃ আবু ছাইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন ছাড়া কোনো প্রকল্পের বিল অনুমোদন করা হয় না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় দিরাই উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪০ টাকা এবং ৮৮.৮৬৩৮ মেট্রিক টন চাল ও সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির অর্থ থেকে ৬১টি কাবিটা ও ২৪টি কাবিখা প্রকল্প এবং দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ থেকে ৬০টি টিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪৫টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিসি ঢালাই কাজের মান ও পরিমাপে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ ৮ ফুট ও ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রকল্পে তা মানা হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।

 

কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি প্রকল্প থেকে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। এছাড়া মাস্টাররোল ও স্ট্যাম্প বাবদ অতিরিক্ত অর্থও নেওয়া হয়। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা সম্ভব হয় না।

রাজানগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও এক প্রকল্প সভাপতি ডলি রানী বলেন, “প্রকল্পের টাকা থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়েছে।”

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও মির্জা মোঃ আবু ছাইদ বলেন, “যারা অভিযোগ করছেন, তাদের নিয়ে অফিসে আসুন। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, তাঁর দপ্তরে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি; অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

 

উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।