ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সম্মিলিত মানবাধিকার জোট, নেত্রকোণা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা খাগড়াছড়ি জোনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে একদিনেই চিকিৎসা পেলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ সরকারি ভর্তুকিতে ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দকৃত হারভেস্টার ‘উধাও’! বারহাট্টায় কৃষকের বুকফাটা হাহাকার শখ থেকে স্বপ্নের ব্যবসা—ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে আলোর নতুন রূপ ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও নেত্রকোনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম শুরু শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা খাগড়াছড়িতে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান, আটক ৩—কারাদণ্ড বীরগঞ্জে আদিবাসী খ্রিস্টান পল্লীতে হামলা: মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টায় গ্রেপ্তার ২ টেকনাফ উত্তর শীলখালী গহীন পাহাড়ে মিলল তিন জন যুবকের লাশ কক্সবাজার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১০হাজার পিস ইয়াবা পাচারকালে স্বামী-স্ত্রী আটক

ভেঙে পড়া ঘর, চোখে ছিল হতাশা যুবসমাজের উদ্যোগে ফিরল নতুন আশার আলো

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধি:

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. সিরাজুল ইসলামের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল একটি ছোট মাটির ঘর। বহু কষ্টে নিজের ও স্ত্রীর পরিশ্রমে গড়া সেই ঘরটিই এক রাতে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের স্বপ্ন। তবে হতাশার সেই মুহূর্তে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় যুবসমাজ। তাদের উদ্যোগে নতুন একটি টিনসেট ঘর পেয়ে আবারও আশার আলো দেখছে পরিবারটি।

 

 

জানা যায়, জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম পেশায় দিন হাজিরা শ্রমিক। সীমিত আয়ের কারণে বহু কষ্টে মাটির তৈরি একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভালো মাটি ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই ঘরটি ধসে পড়ে। এতে করে একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম।

 

 

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিয়ানগর এলাকার যুবসমাজ। স্থানীয় যুবক মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে পানছড়ির বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় একটি টিনসেট ঘর।

 

 

সোমবার (৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরটি সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবার।

 

 

উদ্যোক্তা মো. নূর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। পানছড়ির অনেক মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

 

 

স্থানীয়রা বলেন, সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্মিলিত মানবাধিকার জোট, নেত্রকোণা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ভেঙে পড়া ঘর, চোখে ছিল হতাশা যুবসমাজের উদ্যোগে ফিরল নতুন আশার আলো

আপডেট টাইমঃ ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধি:

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. সিরাজুল ইসলামের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল একটি ছোট মাটির ঘর। বহু কষ্টে নিজের ও স্ত্রীর পরিশ্রমে গড়া সেই ঘরটিই এক রাতে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের স্বপ্ন। তবে হতাশার সেই মুহূর্তে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় যুবসমাজ। তাদের উদ্যোগে নতুন একটি টিনসেট ঘর পেয়ে আবারও আশার আলো দেখছে পরিবারটি।

 

 

জানা যায়, জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম পেশায় দিন হাজিরা শ্রমিক। সীমিত আয়ের কারণে বহু কষ্টে মাটির তৈরি একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভালো মাটি ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই ঘরটি ধসে পড়ে। এতে করে একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম।

 

 

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিয়ানগর এলাকার যুবসমাজ। স্থানীয় যুবক মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে পানছড়ির বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় একটি টিনসেট ঘর।

 

 

সোমবার (৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরটি সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবার।

 

 

উদ্যোক্তা মো. নূর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। পানছড়ির অনেক মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

 

 

স্থানীয়রা বলেন, সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।