ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন।  সৌদি আরব নাজরানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ১২ জন প্রবাসী গ্রেপ্তার। সাবরাং জিরো পয়েন্টে ২৭কেজি গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারিকে আটক যারা লড়াই করতে যানে মানুষের অধিকার আদায় করতে যানে আমি সেই দলের মানুষ” অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন  পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সুদের খাঁচায় বন্দি, ঘুষের টেবিলে জিম্মি: হসপিটালের ফ্লোরে আর্তনাদ করছে অবহেলিত মানুষ মানবতার দুর্গ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন উপহার খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি। সৌদি আরব এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী ৭,৭৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমাকান্দায় ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল উদ্বোধন 

মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮৯ বার

শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ ইউপিতে বিভিন্ন হাওরে আকর্ষিক বন্যা চোঁখের সামনেই কৃষকের স্বপ্নের ফসল ধান চলে গেছে পানির নিচে।

 

 

একজন কৃষক হাড়ভাঙ্গা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সোনালি ফসল বোরো ধান রোপন করে।
ধান রোপনের পর থেকে সোনালী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় কাটে প্রতিটি দিন।

 

 

টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধান তলিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিশাহারা নেত্রকোনার মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা। ডুবে যাওয়া ধান ক্ষেত দেখে অনেকে কথা বলতে পারছে না কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

 

 

সরেজমিন দেখা যায়, টানা বৃষ্টি, ঝড়, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাতে হাওরপাড়ের মানুষের বুকের ভেতর বয়ে গেছে হাহাকার। হাওরের অধিকাংশ ফসল ভাসান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও ধানের গোছা পানির সঙ্গে মিশে আছে। কৃষকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এক মুঠো ধান ফিরে পেতে।

 

 

টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোনার মদনের হাওরাঞ্চলে আবারও ফিরে এসেছে পুরনো বিপর্যয়ের সেই চেনা দৃশ্য। চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঘাম, শ্রম আর বছরের একমাত্র স্বপ্ন-সোনালি বোরো ধান।

 

 

৩০ এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য অনেক কষৃক ক্ষেতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

 

 

উপজেলার গোবিন্দশ্রী হাওরে এক রাতেই পাহাড়ি বর্ষণ ও উত্তর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে ডুবে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্নের ফসল বোরো ধান।

 

 

প্রতিবছর একই ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে সবচেয়ে বেশি চরম মূল্য চোকাচ্ছেন এই অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা।

 

 

কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক। প্রকৃতির রুদ্ররোষের সঙ্গে অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারছেন না তারা। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকরা এখন চরম
কষ্টে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে।

 

 

উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, মদন উপজেলার আটটি ইউনিয়নের কৃষকদের একমাত্র সম্বল সোনালী ফসল বোরো ধান।
আর এমনও কৃষক রয়েছে সোনালী ফসল বোরো ধান এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারেনি।একমাত্র সম্বল বোরো ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

 

নদী ভরাট হয়ে যাওয়া উত্তর অঞ্চল থেকে নেমে আসা ভাড়ি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন হাওরে ধান।
মদন উপজেলার নদী ও খাল খনন স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কৃষকদের এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।

 

 

উপজেলার গোবিন্দশ্রী হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘অতি বৃষ্টিতে গোবিন্দ শ্রী ও উচিৎপুর হাওর, কদমশ্রী হাওর, ফতেপুরের হাওর, জয়পাশা হাওরে বোরো ধান পানিতে ডুবে গেছে।

 

 

বিভিন্ন হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কান্নায় দেখে নিজের চোখেও কান্না ধরে রাখা যায় না কৃষকের সোনালী ফসলের আকস্মিক বন্যার ক্ষয় ক্ষতি দেখে।

 

 

তিনি মদন মোহনগঞ্জ খালিয়াজুরীর সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পক্ষে জোর দাবি জানান।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে মদন উপজেলার অনেক কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ ও উত্তর থেকে থেকে নেমে আসা ভারী বৃষ্টির পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে বোরো ধান। চলমান বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান।

 

 

মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মিজান বলেন,মদনে ১৭ হাজার ৬০০ শত ৫০ পঞ্চাশ হেক্টর ধানের জমি চাষ হয়েছে। হঠাৎ আকস্মিক বন্যা ভারি বৃষ্টিতে প্রায় ৭ শত ৬০হেক্টর জমির বোরো ধান বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

 

 

তিনি আরো বলেন, মদনের বিভিন্ন হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে পরবর্তী সময় স্থানীয় এমপি মহোদয় স্যারের মাধ্যমে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন। 

মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান

আপডেট টাইমঃ ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ৮ ইউপিতে বিভিন্ন হাওরে আকর্ষিক বন্যা চোঁখের সামনেই কৃষকের স্বপ্নের ফসল ধান চলে গেছে পানির নিচে।

 

 

একজন কৃষক হাড়ভাঙ্গা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সোনালি ফসল বোরো ধান রোপন করে।
ধান রোপনের পর থেকে সোনালী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় কাটে প্রতিটি দিন।

 

 

টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধান তলিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিশাহারা নেত্রকোনার মদন উপজেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকরা। ডুবে যাওয়া ধান ক্ষেত দেখে অনেকে কথা বলতে পারছে না কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

 

 

সরেজমিন দেখা যায়, টানা বৃষ্টি, ঝড়, ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাতে হাওরপাড়ের মানুষের বুকের ভেতর বয়ে গেছে হাহাকার। হাওরের অধিকাংশ ফসল ভাসান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও ধানের গোছা পানির সঙ্গে মিশে আছে। কৃষকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এক মুঠো ধান ফিরে পেতে।

 

 

টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোনার মদনের হাওরাঞ্চলে আবারও ফিরে এসেছে পুরনো বিপর্যয়ের সেই চেনা দৃশ্য। চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঘাম, শ্রম আর বছরের একমাত্র স্বপ্ন-সোনালি বোরো ধান।

 

 

৩০ এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য অনেক কষৃক ক্ষেতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

 

 

উপজেলার গোবিন্দশ্রী হাওরে এক রাতেই পাহাড়ি বর্ষণ ও উত্তর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে ডুবে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্নের ফসল বোরো ধান।

 

 

প্রতিবছর একই ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে সবচেয়ে বেশি চরম মূল্য চোকাচ্ছেন এই অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা।

 

 

কোমর সমান পানিতে নেমে ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক। প্রকৃতির রুদ্ররোষের সঙ্গে অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারছেন না তারা। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকরা এখন চরম
কষ্টে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে।

 

 

উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, মদন উপজেলার আটটি ইউনিয়নের কৃষকদের একমাত্র সম্বল সোনালী ফসল বোরো ধান।
আর এমনও কৃষক রয়েছে সোনালী ফসল বোরো ধান এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারেনি।একমাত্র সম্বল বোরো ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

 

 

নদী ভরাট হয়ে যাওয়া উত্তর অঞ্চল থেকে নেমে আসা ভাড়ি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন হাওরে ধান।
মদন উপজেলার নদী ও খাল খনন স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কৃষকদের এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।

 

 

উপজেলার গোবিন্দশ্রী হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘অতি বৃষ্টিতে গোবিন্দ শ্রী ও উচিৎপুর হাওর, কদমশ্রী হাওর, ফতেপুরের হাওর, জয়পাশা হাওরে বোরো ধান পানিতে ডুবে গেছে।

 

 

বিভিন্ন হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কান্নায় দেখে নিজের চোখেও কান্না ধরে রাখা যায় না কৃষকের সোনালী ফসলের আকস্মিক বন্যার ক্ষয় ক্ষতি দেখে।

 

 

তিনি মদন মোহনগঞ্জ খালিয়াজুরীর সংসদ সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পক্ষে জোর দাবি জানান।

 

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে মদন উপজেলার অনেক কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ ও উত্তর থেকে থেকে নেমে আসা ভারী বৃষ্টির পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে বোরো ধান। চলমান বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান।

 

 

মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মিজান বলেন,মদনে ১৭ হাজার ৬০০ শত ৫০ পঞ্চাশ হেক্টর ধানের জমি চাষ হয়েছে। হঠাৎ আকস্মিক বন্যা ভারি বৃষ্টিতে প্রায় ৭ শত ৬০হেক্টর জমির বোরো ধান বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

 

 

তিনি আরো বলেন, মদনের বিভিন্ন হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে পরবর্তী সময় স্থানীয় এমপি মহোদয় স্যারের মাধ্যমে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।