ঢাকা , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শখ থেকে স্বপ্নের ব্যবসা—ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে আলোর নতুন রূপ ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও নেত্রকোনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম শুরু শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা খাগড়াছড়িতে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান, আটক ৩—কারাদণ্ড বীরগঞ্জে আদিবাসী খ্রিস্টান পল্লীতে হামলা: মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টায় গ্রেপ্তার ২ টেকনাফ উত্তর শীলখালী গহীন পাহাড়ে মিলল তিন জন যুবকের লাশ কক্সবাজার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১০হাজার পিস ইয়াবা পাচারকালে স্বামী-স্ত্রী আটক সেন্টমার্টিনের অদূরে সমুদ্র এলাকায় নৌবাহিনী অভিযানে সিমেন্ট বোঝাই বোটসহ ১১ জনকে আটক করেছে  নেত্রকোনায় বিএনপি থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন পেলেন মানসুরা আক্তার। সৌদি যুবরাজ আল-বুরহান সুদানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সিলগালার পরও চলছে সানফ্লাওয়ার ব্যাটারিজ রাতের আঁধারে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগ

রাকিবুল হাসান আহাদ, ক্রাইম রিপোর্টারঃ

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নে সিলগালা করার পরও গোপনে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগ উঠেছে ‘সানফ্লাওয়ার ব্যাটারিজ লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দিনে কারখানার গেটে প্রশাসনের সিলগালা ও তালা ঝুললেও রাতের আঁধারে সেখানে আবারও শুরু হয় উৎপাদন কার্যক্রম। এতে করে আশপাশের জনবসতির মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গফরগাঁওয়ে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটিকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিলগালা করা কারখানায় কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের বেলা গোপনে আবারও কারখানাটি চালু করা হচ্ছে।

বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কারখানার ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির সময় যে বিষাক্ত ধোঁয়া ও সিসার কণা বাতাসে ছড়ায় তা আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

পরিবেশবিদদের মতে, ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এসব বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুস, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কার্যক্রম নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এখন সিলগালার পরও যদি কারখানাটি গোপনে পরিচালিত হয়, তবে তা আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা বলেই মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তাদের মতে, শুধু জরিমানা বা সিলগালা নয়—কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্নসহ কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

শখ থেকে স্বপ্নের ব্যবসা—ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে আলোর নতুন রূপ ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও

সিলগালার পরও চলছে সানফ্লাওয়ার ব্যাটারিজ রাতের আঁধারে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

রাকিবুল হাসান আহাদ, ক্রাইম রিপোর্টারঃ

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নে সিলগালা করার পরও গোপনে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগ উঠেছে ‘সানফ্লাওয়ার ব্যাটারিজ লিমিটেড’ নামের একটি কারখানার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দিনে কারখানার গেটে প্রশাসনের সিলগালা ও তালা ঝুললেও রাতের আঁধারে সেখানে আবারও শুরু হয় উৎপাদন কার্যক্রম। এতে করে আশপাশের জনবসতির মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গফরগাঁওয়ে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটিকে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সিলগালা করা কারখানায় কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাতের বেলা গোপনে আবারও কারখানাটি চালু করা হচ্ছে।

বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে কারখানার ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং বাতাসে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির সময় যে বিষাক্ত ধোঁয়া ও সিসার কণা বাতাসে ছড়ায় তা আশপাশের মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

পরিবেশবিদদের মতে, ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা ক্ষতিকর উপাদান ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এসব বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুস, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কার্যক্রম নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এখন সিলগালার পরও যদি কারখানাটি গোপনে পরিচালিত হয়, তবে তা আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা বলেই মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। তাদের মতে, শুধু জরিমানা বা সিলগালা নয়—কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্নসহ কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া