ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দূর্যোগ প্রস্তুতি লড়ব” তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব ”  এই স্লোগানে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উদযাপন  গোমস্তাপুরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত মদনে ফারিয়া সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে নৌ-টহল জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির নজরদারি জোরদার মদনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল। খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির ওয়াদুদ ভূইয়ার জয়, ভোটারদের শান্ত থাকার আহবান  পানছড়িতে ভাতাভোগী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ গফরগাঁওয়ে ‘মিথ্যা তথ্য প্রকাশের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন তরুণ সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট ইসাদুল হক (বান্না)-কে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চায় পেড়িখালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ মদনে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত

ভেঙে পড়া ঘর, চোখে ছিল হতাশা যুবসমাজের উদ্যোগে ফিরল নতুন আশার আলো

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধি:

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. সিরাজুল ইসলামের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল একটি ছোট মাটির ঘর। বহু কষ্টে নিজের ও স্ত্রীর পরিশ্রমে গড়া সেই ঘরটিই এক রাতে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের স্বপ্ন। তবে হতাশার সেই মুহূর্তে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় যুবসমাজ। তাদের উদ্যোগে নতুন একটি টিনসেট ঘর পেয়ে আবারও আশার আলো দেখছে পরিবারটি।

 

 

জানা যায়, জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম পেশায় দিন হাজিরা শ্রমিক। সীমিত আয়ের কারণে বহু কষ্টে মাটির তৈরি একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভালো মাটি ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই ঘরটি ধসে পড়ে। এতে করে একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম।

 

 

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিয়ানগর এলাকার যুবসমাজ। স্থানীয় যুবক মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে পানছড়ির বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় একটি টিনসেট ঘর।

 

 

সোমবার (৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরটি সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবার।

 

 

উদ্যোক্তা মো. নূর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। পানছড়ির অনেক মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

 

 

স্থানীয়রা বলেন, সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

 

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

দূর্যোগ প্রস্তুতি লড়ব” তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব ”  এই স্লোগানে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২৬ উদযাপন 

ভেঙে পড়া ঘর, চোখে ছিল হতাশা যুবসমাজের উদ্যোগে ফিরল নতুন আশার আলো

আপডেট টাইমঃ ০৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধি:

 

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. সিরাজুল ইসলামের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল একটি ছোট মাটির ঘর। বহু কষ্টে নিজের ও স্ত্রীর পরিশ্রমে গড়া সেই ঘরটিই এক রাতে ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের স্বপ্ন। তবে হতাশার সেই মুহূর্তে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় যুবসমাজ। তাদের উদ্যোগে নতুন একটি টিনসেট ঘর পেয়ে আবারও আশার আলো দেখছে পরিবারটি।

 

 

জানা যায়, জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম পেশায় দিন হাজিরা শ্রমিক। সীমিত আয়ের কারণে বহু কষ্টে মাটির তৈরি একটি ছোট ঘর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভালো মাটি ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই ঘরটি ধসে পড়ে। এতে করে একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম।

 

 

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জিয়ানগর এলাকার যুবসমাজ। স্থানীয় যুবক মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে পানছড়ির বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সেই সহযোগিতার অর্থ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় একটি টিনসেট ঘর।

 

 

সোমবার (৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরটি সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি ও তার পরিবার।

 

 

উদ্যোক্তা মো. নূর ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। পানছড়ির অনেক মানুষ আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

 

 

স্থানীয়রা বলেন, সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।