ঢাকা , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উপর হামলা: প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন দেশজুড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা ‘বন্ধুত্ব ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’: জেলা-উপজেলায় রক্ত সংগ্রহে অনন্য দৃষ্টান্ত মরিচ্যা বিজিবির চেকপোস্টে ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান ময়মনসিংহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে র‍্যাবের অভিযানে ২ জন আটক সৌদি আরব উপসাগরীয় নেতারা ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছেন, হরমুজ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির কান্ডারী (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) আহসান হাবীব ঠান্ডু ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ

শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে যুবদল নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু

নাছিম মৃধা,জেলা প্রতিনিধি।

 

বাগেরহাট জেলার দেপাড়া,গোটাপাড়ার আড়ারখাল ব্রিজ গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন যুবদল নেতা সোহাগ সরদার (২৭)। নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলে আওয়ামী পন্থী রাজনৈতিক দলের আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজন।

 

নিহত সোহাগ সরদার(২৭)বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের আদিখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং আবেদআলী সরদারের পুত্র।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,

২৩ জুলাই সোহাগ তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে দেখা করার জন্য দেপাড়া,গোটাপাড়া ইউনিয়নের আড়াইখাল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান।তার স্ত্রী আগে থেকে শশুর বাড়ীতে ছিলেন। সেখানে যাওয়ার কিছু সময় পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে স্ত্রী সোনিয়ার একাধিক পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, সোহাগকে ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।

 

নিহত সোহাগের ভাই রফিক সরদার জানান, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তার স্ত্রী, শ্বশুর এবং ভাই সবাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা সকলে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও প্রভাবশালী। স্ত্রী সোনিয়ার ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং সোনিয়ার বাবা আওয়ামী লীগের দালাল।সন্ত্রাসী কায়দায় আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।”

 

ঘটনার পরপরই সোহাগকে স্থানীয়ভাবে গোপনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পরিবারের দাবি:

নিহতের শ্বশুরবাড়ির অধিকাংশ আত্মীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত বলে দাবি করেন এলাকাবাসী ও সোহাগের পরিবার। শ্বশুর একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, যার ছত্রছায়ায় পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।এছাড়াও বিগত কিছু দিন আগেও তাকে মারধর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।তখন চিতলমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

 

বাগেরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী তার নিজের স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে এইভাবে প্রাণ হারাবে — এটি মেনে নেওয়া যায় না।”

পানছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উপর হামলা: প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে যুবদল নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট টাইমঃ ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

নাছিম মৃধা,জেলা প্রতিনিধি।

 

বাগেরহাট জেলার দেপাড়া,গোটাপাড়ার আড়ারখাল ব্রিজ গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন যুবদল নেতা সোহাগ সরদার (২৭)। নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সকলে আওয়ামী পন্থী রাজনৈতিক দলের আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাবশালী আত্মীয়-স্বজন।

 

নিহত সোহাগ সরদার(২৭)বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের আদিখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং আবেদআলী সরদারের পুত্র।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,

২৩ জুলাই সোহাগ তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে দেখা করার জন্য দেপাড়া,গোটাপাড়া ইউনিয়নের আড়াইখাল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান।তার স্ত্রী আগে থেকে শশুর বাড়ীতে ছিলেন। সেখানে যাওয়ার কিছু সময় পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে স্ত্রী সোনিয়ার একাধিক পরকীয়া প্রেম ও অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, সোহাগকে ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।

 

নিহত সোহাগের ভাই রফিক সরদার জানান, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তার স্ত্রী, শ্বশুর এবং ভাই সবাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা সকলে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও প্রভাবশালী। স্ত্রী সোনিয়ার ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং সোনিয়ার বাবা আওয়ামী লীগের দালাল।সন্ত্রাসী কায়দায় আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।”

 

ঘটনার পরপরই সোহাগকে স্থানীয়ভাবে গোপনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

পরিবারের দাবি:

নিহতের শ্বশুরবাড়ির অধিকাংশ আত্মীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত বলে দাবি করেন এলাকাবাসী ও সোহাগের পরিবার। শ্বশুর একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত, যার ছত্রছায়ায় পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।এছাড়াও বিগত কিছু দিন আগেও তাকে মারধর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।তখন চিতলমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

 

বাগেরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী তার নিজের স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে এইভাবে প্রাণ হারাবে — এটি মেনে নেওয়া যায় না।”