ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে উদ্যোক্তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা, হত্যার হুমকির অভিযোগ মদনে শশুরের ঘরে চুরির ঘটনায় বাবা ছেলে গ্রেপ্তার। টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পা’চা’রে’র উদ্দেশ্যে বন্দি থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩২ জন উদ্ধার। পানছড়িতে শতাধিক নারীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত টেকনাফে বিভিন্ন জায়গা থেকে হারিয়ে যাওয়া ২৫ মোবাইল উদ্ধার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত হুইপদের শ্রদ্ধা নিবেদন খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মসূচি: সন্তু লারমার অপসারণ ও তদন্ত দাবি আটপাড়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন  বারহাট্টায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত খাগড়াছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

দীর্ঘ দমন-পীড়নের অবসান, ফের জেগে উঠছে লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়।

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধিঃ-

 

 

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা ১নং লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে অবশেষে ফিরছে প্রাণ ও প্রতিবাদের স্পন্দন। বছরের পর বছর অবহেলা, ভাঙচুর ও নিশ্চুপতার অন্ধকারে ডুবে থাকা এই কার্যালয়টি আবারও সংগ্রামী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

 

 

স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াল সময়ে যখন বিএনপির নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ, তখন লোগাং ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কার্যালয় ব্যবহার তো দূরের কথা, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই লড়াই করেছেন। সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে আজ নতুন প্রত্যয়ে, নতুন সাহসে কার্যালয়টিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন লোগাং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আইনুল হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাশরাফি (জীবন)। তাঁদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে পরিত্যক্ত, ধূলিধূসরিত ও অগোছালো কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে।

 

 

এই উদ্যোগ কেবল একটি ভবন সংস্কারের কাজ নয়—এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর রাজপথে ফিরে আসার ঘোষণা, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসী উচ্চারণ। কার্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথর যেন নতুন করে সাক্ষ্য দিচ্ছে বিএনপির অবিচল সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাসের।

 

 

এ প্রসঙ্গে পানছড়ি উপজেলা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিলন মিয়া বলেন,

“এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, দমন-পীড়ন দিয়ে বিএনপির রাজনীতি থামানো যায় না। শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা কখনো পরাজিত হয় না—তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ায়।”

 

 

লোগাং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, “যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কার্যালয়কে নতুন করে দাঁড় করাচ্ছেন, তাঁরা দলের প্রকৃত সৈনিক। তাঁদের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।”ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল পাশা এই উদ্যোগকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে বলেন, “এ কার্যালয় আবারও হবে আন্দোলন-সংগ্রামের ঘাঁটি, জনগণের অধিকার আদায়ের কেন্দ্র।”

 

 

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয় আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের এক অগ্রবর্তী কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দমন-পীড়নের কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে লোগাংয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জাগরণ—যা শেষ পর্যন্ত গণমানুষের বিজয়ের পথ সুগম করবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে উদ্যোক্তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা, হত্যার হুমকির অভিযোগ

দীর্ঘ দমন-পীড়নের অবসান, ফের জেগে উঠছে লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়।

আপডেট টাইমঃ ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ফাহিম উদ্দিন, পানছড়ি প্রতিনিধিঃ-

 

 

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের কারণে দলীয় কার্যক্রম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা ১নং লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে অবশেষে ফিরছে প্রাণ ও প্রতিবাদের স্পন্দন। বছরের পর বছর অবহেলা, ভাঙচুর ও নিশ্চুপতার অন্ধকারে ডুবে থাকা এই কার্যালয়টি আবারও সংগ্রামী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

 

 

স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াল সময়ে যখন বিএনপির নাম নেওয়াই ছিল অপরাধ, তখন লোগাং ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কার্যালয় ব্যবহার তো দূরের কথা, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই লড়াই করেছেন। সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে আজ নতুন প্রত্যয়ে, নতুন সাহসে কার্যালয়টিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন লোগাং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আইনুল হোসেন ও ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাশরাফি (জীবন)। তাঁদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে পরিত্যক্ত, ধূলিধূসরিত ও অগোছালো কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে।

 

 

এই উদ্যোগ কেবল একটি ভবন সংস্কারের কাজ নয়—এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের পর রাজপথে ফিরে আসার ঘোষণা, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসী উচ্চারণ। কার্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথর যেন নতুন করে সাক্ষ্য দিচ্ছে বিএনপির অবিচল সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাসের।

 

 

এ প্রসঙ্গে পানছড়ি উপজেলা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিলন মিয়া বলেন,

“এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, দমন-পীড়ন দিয়ে বিএনপির রাজনীতি থামানো যায় না। শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা কখনো পরাজিত হয় না—তারা আবারও ঘুরে দাঁড়ায়।”

 

 

লোগাং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, “যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই কার্যালয়কে নতুন করে দাঁড় করাচ্ছেন, তাঁরা দলের প্রকৃত সৈনিক। তাঁদের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।”ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল পাশা এই উদ্যোগকে সময়ের দাবি উল্লেখ করে বলেন, “এ কার্যালয় আবারও হবে আন্দোলন-সংগ্রামের ঘাঁটি, জনগণের অধিকার আদায়ের কেন্দ্র।”

 

 

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে লোগাং ইউনিয়ন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয় আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের এক অগ্রবর্তী কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখবে। দমন-পীড়নের কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে লোগাংয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জাগরণ—যা শেষ পর্যন্ত গণমানুষের বিজয়ের পথ সুগম করবে।