
পলাশ পাল,
বারহাট্টা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় জানুয়ারি ২০২৬ এ ধর্ষণের শিকার হওয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত ১০মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের জরুরি অস্ত্রোপচারে তার জীবন রক্ষা পেলেও মারাত্মক সংক্রমণের কারণে অপসারণ করতে হয়েছে তার জরায়ু। এতে ভবিষ্যতে সে আর মাতৃত্ব গ্রহণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের শাসনউড়া গ্রামে। অভিযুক্ত কিশোর নুরজামাল (১৬) একই এলাকার নিজামউদ্দিনের ছেলে। সম্পর্কে তিনি শিশুটির প্রতিবেশী চাচা।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আনুমানিক জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নুরজামাল কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে তার ওপর পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন চালায়।নির্যাতন পরবর্তী ধর্ষণকারী নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষিতাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভয় ও লজ্জার কারণে শিশুটি প্রথমে কাউকে কিছু বলনি।
শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার পর ও আমরা মেয়ের উপর ঘটে যাওয়া পাশবিক ঘটনার কিছুই অনুমান পর্যন্ত পারিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই মেয়ের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। ওষুধ খেলে কিছুদিন ভালো থাকলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
তিনি জানান, কয়েকদিন আগে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির সঙ্গে গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পরে এ ব্যাপারে মেয়েকে আশ্বস্ত করে জিজ্ঞাসা করলে সে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়।
গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, নির্যাতনের কারণে তার ডিম্বাশয় ও জরায়ুতে মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটির জীবন রক্ষায় বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে।অবশেষে প্রথম শ্রেণিতে পড়া আলোচিত ৭ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারহাট্টা থানার অফিসার ইন চার্জ নাজমুল হাসান। মেয়েটির বাবা সরিকুল ইসলাম আরও জানান,
বর্বর এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরিকুল ইসলাম জানান, “এলাকা থেকে অনেকেই আমাকে ফোন করে চাপ দিচ্ছে যেন আমি মামলা না করি। তারা টাকা-পয়সা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলতে বলছে। কিন্তু আমি আমার মেয়ের এই সর্বনাশের বিচার চাই। আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে থানায় মামলা করবো।”
তবে এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থাটির বারহাট্টা উপজেলার কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিৎ ভৌমিক জানান, “ভিকটিম ও তার পরিবারকে আমরা আশ্বাস দিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে একটা মামলা করেছে।এই মামলাটি তদন্তাধীন।খুব দ্রুতই অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন ডেস্কঃ 















