ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সম্মিলিত মানবাধিকার জোট, নেত্রকোণা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা খাগড়াছড়ি জোনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে একদিনেই চিকিৎসা পেলেন পাঁচ শতাধিক মানুষ সরকারি ভর্তুকিতে ইউনিয়ন ভিত্তিক বরাদ্দকৃত হারভেস্টার ‘উধাও’! বারহাট্টায় কৃষকের বুকফাটা হাহাকার শখ থেকে স্বপ্নের ব্যবসা—ব্যাংক কর্মকর্তার হাতে আলোর নতুন রূপ ‘লোপাস ক্যান্ডেল স্টুডিও নেত্রকোনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম শুরু শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা খাগড়াছড়িতে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান, আটক ৩—কারাদণ্ড বীরগঞ্জে আদিবাসী খ্রিস্টান পল্লীতে হামলা: মন্দির ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টায় গ্রেপ্তার ২ টেকনাফ উত্তর শীলখালী গহীন পাহাড়ে মিলল তিন জন যুবকের লাশ কক্সবাজার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১০হাজার পিস ইয়াবা পাচারকালে স্বামী-স্ত্রী আটক

লোকমানের বাড়িতে ৬দিন ধরে বিয়ের দাবিতে দুই সন্তানের জননীর অনশন, থানায় অভিযোগ

শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ 

মদন উপজেলা প্রতিনিধি 

 

নেত্রকোনার মদনে বিয়ের দাবিতে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী ৬দিন ধরে অনশন করছেন। তবে মামাতো ভাই (প্রেমিক) লোকমান মিয়া বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার বিয়েতে সম্মত না।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে বিয়ে না করলে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে আত্মহত্যা করবে বলে জানায় ভুক্তভোগী নারী।

 

 

অভিযুক্ত লোকমান মিয়া (৩২) উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বারবুড়ি গ্রামের আঃ মোতালিব ছেলে। ওই নারী অভিযুক্তের সম্পর্কে ফুফাতো বোন। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা।

 

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী দুই সন্তানের জননী। ওই নারী ৮-৯ বছর আগে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঢাকা পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। এ সুবাদে তিনি বরিশালের এক যুবকের সাথে পরিচয় এবং পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাদের কুলজুড়ে আসে দুটি সন্তান। সন্তান রেখে মামাতো ভাই লোকমানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।

বিয়ের আশ্বাসে গত এক বছর আগে ওই নারী স্বামী সন্তান রেখে চলে আসেন এবং তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। বাবার বাড়ীতে কিছুদিন থাকার পর ঢাকায় গার্মেন্টস এ চাকুরী শুরু করেন। গেল রোজার ঈদের পর বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। ছুটিতে আসার পর বিয়ের কথা বললে তাল বাহানা শুরু করেন লোকমান। কোন উপায় না পেয়ে ঈদের পরদিন রবিবার থেকে লোকমানের বাড়ি মদন উপজেলার বারবুড়ি গ্রামে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে ওই ভুক্তভোগী নারী।

পরে প্রেমিক লোকমান বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার রাজি হয়নি। এর ফাঁকে লোকমান তার কর্মস্থল নারায়নগঞ্জে চলে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী প্রেমিক ও তার বাবা ও মা কে আসামী করে মদন থানায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

 

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, বিবাহের প্রলোভন দিয়ে স্বামীর সংসার থেকে আপনাকে ছাড়িয়ে আনেন অভিযুক্ত লোকমান । এক বছর আগে ২টি সন্তানকে রেখে তালাক দিয়ে বাড়ীতে চলে আসি। কিছুদিন থাকার পর লোকমানের কথায় আমি ঢাকায় গার্মেন্টস এ চাকুরী করিতে থাকি। এবার ঈদের পর বিয়ে করার কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক করে। আমার সব শেষ। লোকমান আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া এখন আর আমার কোন উপায় থাকবে না।

 

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লোকমান মিয়া মুঠোফোনে জানান, এখন তো আমার আর উপায় নেই এখন আমি মেয়েকে বিয়ে করব।

 

 

এ ঘটনায় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, বিয়ের দাবিতে অনশন করা দুই সন্তানের জননী এক মহিলার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

সম্মিলিত মানবাধিকার জোট, নেত্রকোণা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

লোকমানের বাড়িতে ৬দিন ধরে বিয়ের দাবিতে দুই সন্তানের জননীর অনশন, থানায় অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ 

মদন উপজেলা প্রতিনিধি 

 

নেত্রকোনার মদনে বিয়ের দাবিতে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী ৬দিন ধরে অনশন করছেন। তবে মামাতো ভাই (প্রেমিক) লোকমান মিয়া বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার বিয়েতে সম্মত না।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মদন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে বিয়ে না করলে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে আত্মহত্যা করবে বলে জানায় ভুক্তভোগী নারী।

 

 

অভিযুক্ত লোকমান মিয়া (৩২) উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বারবুড়ি গ্রামের আঃ মোতালিব ছেলে। ওই নারী অভিযুক্তের সম্পর্কে ফুফাতো বোন। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার বাসিন্দা।

 

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী দুই সন্তানের জননী। ওই নারী ৮-৯ বছর আগে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঢাকা পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। এ সুবাদে তিনি বরিশালের এক যুবকের সাথে পরিচয় এবং পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাদের কুলজুড়ে আসে দুটি সন্তান। সন্তান রেখে মামাতো ভাই লোকমানের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।

বিয়ের আশ্বাসে গত এক বছর আগে ওই নারী স্বামী সন্তান রেখে চলে আসেন এবং তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। বাবার বাড়ীতে কিছুদিন থাকার পর ঢাকায় গার্মেন্টস এ চাকুরী শুরু করেন। গেল রোজার ঈদের পর বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন। ছুটিতে আসার পর বিয়ের কথা বললে তাল বাহানা শুরু করেন লোকমান। কোন উপায় না পেয়ে ঈদের পরদিন রবিবার থেকে লোকমানের বাড়ি মদন উপজেলার বারবুড়ি গ্রামে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে ওই ভুক্তভোগী নারী।

পরে প্রেমিক লোকমান বিয়ে করতে রাজি হলেও তার পরিবার রাজি হয়নি। এর ফাঁকে লোকমান তার কর্মস্থল নারায়নগঞ্জে চলে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী প্রেমিক ও তার বাবা ও মা কে আসামী করে মদন থানায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

 

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, বিবাহের প্রলোভন দিয়ে স্বামীর সংসার থেকে আপনাকে ছাড়িয়ে আনেন অভিযুক্ত লোকমান । এক বছর আগে ২টি সন্তানকে রেখে তালাক দিয়ে বাড়ীতে চলে আসি। কিছুদিন থাকার পর লোকমানের কথায় আমি ঢাকায় গার্মেন্টস এ চাকুরী করিতে থাকি। এবার ঈদের পর বিয়ে করার কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক করে। আমার সব শেষ। লোকমান আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া এখন আর আমার কোন উপায় থাকবে না।

 

 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লোকমান মিয়া মুঠোফোনে জানান, এখন তো আমার আর উপায় নেই এখন আমি মেয়েকে বিয়ে করব।

 

 

এ ঘটনায় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাসনাত জামান জানান, বিয়ের দাবিতে অনশন করা দুই সন্তানের জননী এক মহিলার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।