ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন দেশজুড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা ‘বন্ধুত্ব ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’: জেলা-উপজেলায় রক্ত সংগ্রহে অনন্য দৃষ্টান্ত মরিচ্যা বিজিবির চেকপোস্টে ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান ময়মনসিংহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে র‍্যাবের অভিযানে ২ জন আটক সৌদি আরব উপসাগরীয় নেতারা ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছেন, হরমুজ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির কান্ডারী (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) আহসান হাবীব ঠান্ডু ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ বীরগঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

সৌদি প্রবাসীদের রক্ত পানি করা অর্থ গিলে খাচ্ছে’ লোভী কফিলরা বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি।

মোঃ নোমান খান 

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ 

 

সৌদি আরবে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দিন কাটাচ্ছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ আকামা নবায়নের জন্য কফিলের হাতে তুলে দিলেও, অনেক ‘লোভী’ কফিল সেই টাকা সরকারি ফি হিসেবে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন। ফলে একদিকে অর্থ খুইয়ে রিক্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা, অন্যদিকে বৈধ আকামা না থাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও দেশে ফেরার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

 

সৌদি আইন অনুযায়ী, একজন শ্রমিকের আকামা নবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং খরচ কফিলের বহন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। বিশেষ করে ‘ফ্রি ভিসা’ বা ছোট কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে আকামা বাবদ বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়াল (প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা) দাবি করে বসেন কফিলরা। শ্রমিকরা ধার-দেনা করে এই বিশাল অংকের টাকা কফিলের হাতে তুলে দিলেও অনেক কফিল সেই টাকা দিয়ে আকামা নবায়ন করছেন না।

 

রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকক্ষোভের সাথে জানান

গত তিন মাস আগে আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে ১১ হাজার রিয়াল দিয়েছি। এখন চেক করে দেখি আমার আকামা এখনো ‘এক্সপায়ার’ দেখাচ্ছে। কফিলকে ফোন দিলে তিনি ধরেন না, দেখা করতে গেলে হুমকি দেন। এখন আমি রাস্তায় বের হতে পারছি না, পুলিশ ধরলে সরাসরি দেশে পাঠিয়ে দেবে। আমার এই কষ্টের টাকা কি তবে জলেই গেল?”

 

সৌদি আরবে কফিলের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করা বা কফিলের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সাধারণ শ্রমিকদের জন্য বেশ জটিল। শ্রম আদালতে অভিযোগ করার সুযোগ থাকলেও ভাষাগত দক্ষতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রবাসী পিছু হটেন। এই সুযোগটিই নিচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু কফিল।

 

বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের এই প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন:

ব্যাংক ট্রান্সফার: কফিলকে নগদ টাকা না দিয়ে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো উচিত, যাতে লেনদেনের প্রমাণ থাকে।

 

সাদাদ পেমেন্ট: সম্ভব হলে কফিলের কাছ থেকে ‘সাদাদ নম্বর’ (পেমেন্ট আইডি) নিয়ে নিজেই ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া নিরাপদ।

শ্রম অফিস: কফিল টাকা নিয়েও আকামা না করলে অবিলম্বে সৌদি শ্রম অফিসের (Maktab al-Amal) শরণাপন্ন হওয়া।

দূতাবাসের সহায়তা: বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হলে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেটে লিখিত অভিযোগ জানানো।

 

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও বিদেশের মাটিতে তাদের এই অসহায়ত্ব দেখার যেন কেউ নেই। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন সৌদি সরকারের সাথে উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই ‘কফিল প্রথা’র হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অন্যথায়, হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন এই লোভী কফিলদের পেটে চলে যাবে।

ট্যাগঃ

মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন

সৌদি প্রবাসীদের রক্ত পানি করা অর্থ গিলে খাচ্ছে’ লোভী কফিলরা বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি।

আপডেট টাইমঃ ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ নোমান খান 

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ 

 

সৌদি আরবে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে দিন কাটাচ্ছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ আকামা নবায়নের জন্য কফিলের হাতে তুলে দিলেও, অনেক ‘লোভী’ কফিল সেই টাকা সরকারি ফি হিসেবে জমা না দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন। ফলে একদিকে অর্থ খুইয়ে রিক্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা, অন্যদিকে বৈধ আকামা না থাকায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও দেশে ফেরার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

 

সৌদি আইন অনুযায়ী, একজন শ্রমিকের আকামা নবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং খরচ কফিলের বহন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন। বিশেষ করে ‘ফ্রি ভিসা’ বা ছোট কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে আকামা বাবদ বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়াল (প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা) দাবি করে বসেন কফিলরা। শ্রমিকরা ধার-দেনা করে এই বিশাল অংকের টাকা কফিলের হাতে তুলে দিলেও অনেক কফিল সেই টাকা দিয়ে আকামা নবায়ন করছেন না।

 

রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কর্মরত শ্রমিকক্ষোভের সাথে জানান

গত তিন মাস আগে আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে ১১ হাজার রিয়াল দিয়েছি। এখন চেক করে দেখি আমার আকামা এখনো ‘এক্সপায়ার’ দেখাচ্ছে। কফিলকে ফোন দিলে তিনি ধরেন না, দেখা করতে গেলে হুমকি দেন। এখন আমি রাস্তায় বের হতে পারছি না, পুলিশ ধরলে সরাসরি দেশে পাঠিয়ে দেবে। আমার এই কষ্টের টাকা কি তবে জলেই গেল?”

 

সৌদি আরবে কফিলের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করা বা কফিলের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সাধারণ শ্রমিকদের জন্য বেশ জটিল। শ্রম আদালতে অভিযোগ করার সুযোগ থাকলেও ভাষাগত দক্ষতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রবাসী পিছু হটেন। এই সুযোগটিই নিচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু কফিল।

 

বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের এই প্রতারণা থেকে বাঁচতে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন:

ব্যাংক ট্রান্সফার: কফিলকে নগদ টাকা না দিয়ে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো উচিত, যাতে লেনদেনের প্রমাণ থাকে।

 

সাদাদ পেমেন্ট: সম্ভব হলে কফিলের কাছ থেকে ‘সাদাদ নম্বর’ (পেমেন্ট আইডি) নিয়ে নিজেই ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া নিরাপদ।

শ্রম অফিস: কফিল টাকা নিয়েও আকামা না করলে অবিলম্বে সৌদি শ্রম অফিসের (Maktab al-Amal) শরণাপন্ন হওয়া।

দূতাবাসের সহায়তা: বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হলে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেটে লিখিত অভিযোগ জানানো।

 

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও বিদেশের মাটিতে তাদের এই অসহায়ত্ব দেখার যেন কেউ নেই। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন সৌদি সরকারের সাথে উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এই ‘কফিল প্রথা’র হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অন্যথায়, হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন এই লোভী কফিলদের পেটে চলে যাবে।