ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন দেশজুড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা ‘বন্ধুত্ব ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’: জেলা-উপজেলায় রক্ত সংগ্রহে অনন্য দৃষ্টান্ত মরিচ্যা বিজিবির চেকপোস্টে ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান ময়মনসিংহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে র‍্যাবের অভিযানে ২ জন আটক সৌদি আরব উপসাগরীয় নেতারা ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছেন, হরমুজ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির কান্ডারী (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) আহসান হাবীব ঠান্ডু ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ বীরগঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ: ৩১ মার্চ পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি

আদিলুর রহমান,  ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

 

দেশে ক্রমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে মিজেলস বা হাম। টিকার স্বাভাবিক সময়ের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে সরকার।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৬৭৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ ২০১৪ এবং মার্চে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলাতেই এর সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত রাঙামাটি, বান্দরবান, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা এই ৮ জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

 

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮৫ জন এবং ঢাকা জেলায় ৩২ জন। রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাবনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৫৬ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল, চট্টগ্রামে ৯৩ জন (চাঁদপুরে ১৯ জন), বরিশালে ৫১ জন (বরগুনায় ২৪ জন), খুলনায় ৫১ জন (যশোরে ২১ জন), সিলেটে ১৩ জন (মৌলভীবাজারে ৬ জন) এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন (ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন ।

 

গত বছর এই সময়ে হাম আক্রান্ত রোগী ছিল ৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের এই সময়ে আক্রান্ত রোগী ছিল ৬৪ জন। দেশের আট বিভাগে শনাক্ত হামের রোগীর এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, কোভিডকালীন প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শরীরে অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হাম কোভিডের চেয়েও শক্তিশালী ছোঁয়াচে রোগ, যা একজন থেকে দ্রুত ১৮ জন শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে তিনি বর্তমান ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

চিকিৎসকরা জানান, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর, সর্দি ও শরীর ব্যথা। পরবর্তীতে চোখ লাল হওয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ছোপ দেখা দেয়। এছাড়া গালের ভেতরে ‘কপলিক স্পট’ দেখা দিলে হাম নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

ট্যাগঃ

মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ: ৩১ মার্চ পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি

আপডেট টাইমঃ ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আদিলুর রহমান,  ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

 

দেশে ক্রমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে মিজেলস বা হাম। টিকার স্বাভাবিক সময়ের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে সরকার।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৬৭৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ ২০১৪ এবং মার্চে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলাতেই এর সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত রাঙামাটি, বান্দরবান, বাগেরহাট, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা এই ৮ জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

 

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৮৫ জন এবং ঢাকা জেলায় ৩২ জন। রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে পাবনা জেলাতেই সর্বোচ্চ ৫৬ জন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৭ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল, চট্টগ্রামে ৯৩ জন (চাঁদপুরে ১৯ জন), বরিশালে ৫১ জন (বরগুনায় ২৪ জন), খুলনায় ৫১ জন (যশোরে ২১ জন), সিলেটে ১৩ জন (মৌলভীবাজারে ৬ জন) এবং রংপুর বিভাগে ৬ জন (ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন ।

 

গত বছর এই সময়ে হাম আক্রান্ত রোগী ছিল ৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের এই সময়ে আক্রান্ত রোগী ছিল ৬৪ জন। দেশের আট বিভাগে শনাক্ত হামের রোগীর এমন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, কোভিডকালীন প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শরীরে অ্যান্টিবডির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, হাম কোভিডের চেয়েও শক্তিশালী ছোঁয়াচে রোগ, যা একজন থেকে দ্রুত ১৮ জন শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থার অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে তিনি বর্তমান ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

চিকিৎসকরা জানান, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর, সর্দি ও শরীর ব্যথা। পরবর্তীতে চোখ লাল হওয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ছোপ দেখা দেয়। এছাড়া গালের ভেতরে ‘কপলিক স্পট’ দেখা দিলে হাম নিশ্চিত হওয়া যায়।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নতুন করে টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।