ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আহবায়ক পদে C N A জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম মনোনীত  নেত্রকোণায় মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ শিক্ষকের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১১বছরের এক কিশোরী পানছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে হাওড়ে কৃষকদের জন্য স্থায়ী ভাবে ব্যবস্থা হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: বারহাট্টায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত গ্রিন পিট ভাইপারের দংশনে আহত যুবক সুস্থ বাগমারায় গ্রাম আদালত বিষয়ক মত বিনিময় সভা ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত।  নেত্রকোনায় নবনিযুক্ত চিকিৎসকদের নিয়ে এনসিডি বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত। সম্মিলিত মানবাধিকার জোট, নেত্রকোণা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

নেত্রকোণায় মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোণা সদরের জয়নগর এলাকায় জেলা সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, অপচিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহন পন্ডিত নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এক রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের অন্য রোগের চিকিৎসা করানোসহ অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

 

এছাড়া, পরিচালকের আত্মীয় গৌতম অধিকারী, যিনি একজন রোরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার (আরএমপি), তিনি নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে হাড়ভাঙা ও জোড়া রোগের চিকিৎসার নামে তিনি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীরা চিকিৎসা নিতে গেলে অকারণে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয় এবং অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

 

গত ১৩ এপ্রিল নেত্রকোণা সদরের বলাইনগোয়া এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সরকার পায়ের গোড়ালিতে লোহার বস্তু ঢুকে গেলে চিকিৎসার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে সার্জারি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে হাড়ভাঙা রোগের চিকিৎসা দিয়ে পায়ে প্লাস্টার করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনদিনের মধ্যে তার পায়ের অবস্থা গুরুতর অবনতি ঘটে, ফুলে গিয়ে পচন ধরার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. আশানুল আমীন বলেন, “একজন পল্লী চিকিৎসক কোনোভাবেই নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণার শামিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ময়মনসিংহ মহানগর শাখার আহবায়ক পদে C N A জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম মনোনীত 

নেত্রকোণায় মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ৩ ঘন্টা আগে

নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোণা সদরের জয়নগর এলাকায় জেলা সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, অপচিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহন পন্ডিত নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এক রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের অন্য রোগের চিকিৎসা করানোসহ অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

 

এছাড়া, পরিচালকের আত্মীয় গৌতম অধিকারী, যিনি একজন রোরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার (আরএমপি), তিনি নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে হাড়ভাঙা ও জোড়া রোগের চিকিৎসার নামে তিনি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে অসহায় রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাধবী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীরা চিকিৎসা নিতে গেলে অকারণে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয় এবং অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

 

গত ১৩ এপ্রিল নেত্রকোণা সদরের বলাইনগোয়া এলাকার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সরকার পায়ের গোড়ালিতে লোহার বস্তু ঢুকে গেলে চিকিৎসার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে সার্জারি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না পাঠিয়ে হাড়ভাঙা রোগের চিকিৎসা দিয়ে পায়ে প্লাস্টার করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনদিনের মধ্যে তার পায়ের অবস্থা গুরুতর অবনতি ঘটে, ফুলে গিয়ে পচন ধরার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. আশানুল আমীন বলেন, “একজন পল্লী চিকিৎসক কোনোভাবেই নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণার শামিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

 

এ বিষয়ে নেত্রকোণা জেলার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।