ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন।  সৌদি আরব নাজরানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে ১২ জন প্রবাসী গ্রেপ্তার। সাবরাং জিরো পয়েন্টে ২৭কেজি গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারিকে আটক যারা লড়াই করতে যানে মানুষের অধিকার আদায় করতে যানে আমি সেই দলের মানুষ” অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন  পূর্বধলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সুদের খাঁচায় বন্দি, ঘুষের টেবিলে জিম্মি: হসপিটালের ফ্লোরে আর্তনাদ করছে অবহেলিত মানুষ মানবতার দুর্গ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন উপহার খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি। সৌদি আরব এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী ৭,৭৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমাকান্দায় ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল উদ্বোধন 

আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শহরতলীর মুচিপাড়ায় চামারি মদের উৎপাদন বেড়েছে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে

তৌফিকুর রহমান তাহের,

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়মিত মাদক সহ ব্যবসায়ি ও সেবনকারীকে হাতে নাতে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকার পরও অপরাধীরা আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সদর উপজেলার পিরোজপুর মুচিপাড়া,উত্তম লাল সুইপার কলোনী,রাবার বাড়ি মুচিপাড়া,নীলপুর বাজার,দিরাই রাস্তা মোড়ে,বেতগঞ্জ-সাদকপুর মুচিপাড়া, বুড়িস্থল মুচিপাড়া,গুদারগাও মুচিপাড়া,আমবাড়ি নুরপুর মুচিপাড়ায় চামারি মদের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের পথে।

 

শনিবার (২৩ মে ) সরেজমিন ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত পিরোজপুর আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সুরেশ দাস,যোগেশ দাস, হীরামন দাস,মনি দাস, নীলপুর-রাবারবাড়ি এলাকার গিয়াস উদ্দিন,নিখিল দাস,নীলু দাস,গুদারগাও মুচিপাড়ার শিকলু রবি দাস,সুবিধ দাস,বেতগঞ্জ,বুড়িস্থল, সাদকপুর মুচিপাড়ার,সংগ্রাম,লালচান্দ,যোগেশ্বর দাস,ফুলচান্দ,ল্যাম্পুস, আমবাড়ি নুরপুর মুচিপাড়ার রাজ কুমার,মন্টু দাস,

অবৈধভাবে চামারি চুলাই মদ সহ ভারতীয় মদ তৈরি করে পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা-হাট বাজার, দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি নুরপুর,কাটাকালি বাজার,সহ সদর উপজেলায় বিক্রি করে থাকে।পিরোজপুর,বেতগঞ্জ,আমবাড়ি বাজার এবং আবাসিক এলাকায় কুড়ি খানেক মুচি পরিবার বসবাস করে থাকেন। তাদের একমাত্র পেশাই হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা দিন-রাত তাদের বসতঘরে বসে মদ সেবন করে নেশা করছে। সুকৌশলে পুরুষ লোক ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থেকে মহিলা দিয়ে মদ বিক্রি করে থাকে। তারা সংখ্যালঘু হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের বাড়ির একজন ব্যবসায়ি বলেন, এই মুচি পরিবারের জন্য আমাদের মহল্লার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েজখালি,পিরোজপুর,রাবার বাড়ি,বেতগঞ্জ,সাদকপুর,আমবাড়ি এবং নতুন বাসস্ট্রেশনের অধিকাংশ চালকরা প্রতিদিন তাদের ঘরে রান্নাবান্না করে আনন্দ উল্লাসে মদ পান করে। আমরা অনেক বার স্থানীয় কাউন্সিলারকে মদ তৈরির বিষয়ে অবগত করার পর উনি তাদেরকে ডেকে মদ তৈরি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু নিষেধ করার পরও বন্ধ করেনি।

 

মাদক বিক্রেতা সুরেশ দাস বলেন, আমরা যে মদ তৈরি করি তা বিক্রি করার জন্য নয়, আমরা নিজেরাই সেবন করি।

 

কাউন্সিলর গোলাম আহমদ সৈনিক বলেন, আমি গ্রামবাসী নিয়ে অনেক বার চেষ্টা করেছি তাদের জায়গা টুকু ক্রয় করে উচ্ছেদ করার জন্য কিন্তু উঠানো সম্ভব হয়নি। প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর যদি মাঝে মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতো তাহলে মদ তৈরি বন্ধ হয়ে যেত। আপনারা যদি একটু লেখালেখি করতেন তাহলে প্রশাসনের দূষ্টিগোছর হতো। মদ তৈরির জন্য আমার ওয়ার্ডের নাগরিকরা অনেক বার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার জন্য। কিন্তু আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছি আইন হাতে নেবেন না। আমরা আইনি ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়ব।

 

সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন,গত কয়েকদিন আগে আমরা পিরোজপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু কোন মদ পাইনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে মদ তৈরি হয় কি না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গত মাসেও আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা দিয়েছি। জনবল কম থাকার কারণে প্রতিনিয়ত অভিযান করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো রতন শেখ বলেন,ওয়েজখালী,পিরোজপুর,রাবার বাড়ি,উত্তম লাল কলোনী,সাদকপুর,বেতগঞ্জ, এলাকার মুচি পরিবার মদ তৈরি করে তারা নিজেরা সেবনের জন্য। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে যদি সেবনের চেয়ে অতিরিক্ত মদ তৈরি করে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে কান্দিপাড়ায় মাটি খুড়ে রাস্তা তৈরির গর্তে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু আশঙ্কা জনক অবস্থায় আরো একজন। 

আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শহরতলীর মুচিপাড়ায় চামারি মদের উৎপাদন বেড়েছে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে

আপডেট টাইমঃ ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের,

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়মিত মাদক সহ ব্যবসায়ি ও সেবনকারীকে হাতে নাতে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকার পরও অপরাধীরা আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সদর উপজেলার পিরোজপুর মুচিপাড়া,উত্তম লাল সুইপার কলোনী,রাবার বাড়ি মুচিপাড়া,নীলপুর বাজার,দিরাই রাস্তা মোড়ে,বেতগঞ্জ-সাদকপুর মুচিপাড়া, বুড়িস্থল মুচিপাড়া,গুদারগাও মুচিপাড়া,আমবাড়ি নুরপুর মুচিপাড়ায় চামারি মদের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের পথে।

 

শনিবার (২৩ মে ) সরেজমিন ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত পিরোজপুর আবাসিক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সুরেশ দাস,যোগেশ দাস, হীরামন দাস,মনি দাস, নীলপুর-রাবারবাড়ি এলাকার গিয়াস উদ্দিন,নিখিল দাস,নীলু দাস,গুদারগাও মুচিপাড়ার শিকলু রবি দাস,সুবিধ দাস,বেতগঞ্জ,বুড়িস্থল, সাদকপুর মুচিপাড়ার,সংগ্রাম,লালচান্দ,যোগেশ্বর দাস,ফুলচান্দ,ল্যাম্পুস, আমবাড়ি নুরপুর মুচিপাড়ার রাজ কুমার,মন্টু দাস,

অবৈধভাবে চামারি চুলাই মদ সহ ভারতীয় মদ তৈরি করে পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা-হাট বাজার, দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি নুরপুর,কাটাকালি বাজার,সহ সদর উপজেলায় বিক্রি করে থাকে।পিরোজপুর,বেতগঞ্জ,আমবাড়ি বাজার এবং আবাসিক এলাকায় কুড়ি খানেক মুচি পরিবার বসবাস করে থাকেন। তাদের একমাত্র পেশাই হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মদ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা দিন-রাত তাদের বসতঘরে বসে মদ সেবন করে নেশা করছে। সুকৌশলে পুরুষ লোক ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থেকে মহিলা দিয়ে মদ বিক্রি করে থাকে। তারা সংখ্যালঘু হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের বাড়ির একজন ব্যবসায়ি বলেন, এই মুচি পরিবারের জন্য আমাদের মহল্লার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েজখালি,পিরোজপুর,রাবার বাড়ি,বেতগঞ্জ,সাদকপুর,আমবাড়ি এবং নতুন বাসস্ট্রেশনের অধিকাংশ চালকরা প্রতিদিন তাদের ঘরে রান্নাবান্না করে আনন্দ উল্লাসে মদ পান করে। আমরা অনেক বার স্থানীয় কাউন্সিলারকে মদ তৈরির বিষয়ে অবগত করার পর উনি তাদেরকে ডেকে মদ তৈরি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু নিষেধ করার পরও বন্ধ করেনি।

 

মাদক বিক্রেতা সুরেশ দাস বলেন, আমরা যে মদ তৈরি করি তা বিক্রি করার জন্য নয়, আমরা নিজেরাই সেবন করি।

 

কাউন্সিলর গোলাম আহমদ সৈনিক বলেন, আমি গ্রামবাসী নিয়ে অনেক বার চেষ্টা করেছি তাদের জায়গা টুকু ক্রয় করে উচ্ছেদ করার জন্য কিন্তু উঠানো সম্ভব হয়নি। প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর যদি মাঝে মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতো তাহলে মদ তৈরি বন্ধ হয়ে যেত। আপনারা যদি একটু লেখালেখি করতেন তাহলে প্রশাসনের দূষ্টিগোছর হতো। মদ তৈরির জন্য আমার ওয়ার্ডের নাগরিকরা অনেক বার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার জন্য। কিন্তু আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছি আইন হাতে নেবেন না। আমরা আইনি ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়ব।

 

সুনামগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন,গত কয়েকদিন আগে আমরা পিরোজপুরে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু কোন মদ পাইনি। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে মদ তৈরি হয় কি না। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গত মাসেও আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা দিয়েছি। জনবল কম থাকার কারণে প্রতিনিয়ত অভিযান করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো রতন শেখ বলেন,ওয়েজখালী,পিরোজপুর,রাবার বাড়ি,উত্তম লাল কলোনী,সাদকপুর,বেতগঞ্জ, এলাকার মুচি পরিবার মদ তৈরি করে তারা নিজেরা সেবনের জন্য। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে যদি সেবনের চেয়ে অতিরিক্ত মদ তৈরি করে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।