
নিজস্ব সংবাদদাতা
নব্বই দশকের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সফল ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন শফি আহমেদ। ২০২৪ সালের ৩ জুন সকল শুভাকাঙ্ক্ষীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
জানা গেছে, আজ গোটা দিনব্যাপী নেত্রকোনা সাতপাই কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন, এবং তাঁর পৈতৃক বাসভবন ‘আজিজ ভবন’সহ নেত্রকোনা সদর, মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ির বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন আপামর জনসাধারণ।
মরহুম শফি আহমেদের বিয়োগে ব্যথিত হয়েছে জেলাবাসীসহ মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি এবং সারাদেশের মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র নব্বই দশক থেকে দেশব্যাপী পরিচিতি পাওয়া এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য দেশজুড়ে বইছে নির্বাক শূন্যতা। যাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং অসীম ত্যাগের ইতিহাস আমাদের যৌবন উদ্দীপ্ত করেছিল, সেই সময়োত্তীর্ণ নেতৃত্বের বিদায়ে আজ অশ্রুভারাক্রান্ত হাওরবাসী।
সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কুশীলব, বিপ্লবী শফি আহমেদ। বিপ্লবের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত এই মানুষটি ছিলেন নির্ভীক, আপোষহীন। গণমানুষের অধিকারের জন্য রাজপথে লড়াই করেছেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। তাঁর বিদায়ে নেত্রকোনার মাটিতে নেমে এসেছিল এক অদৃশ্য অন্ধকার, যা এখনো চলমান।
আজ আমরা আমাদের বটবৃক্ষকে হারিয়েছি। শফি আহমেদের আগুনঝরা কণ্ঠস্বরের অভাবে নেতৃত্বের আকাশ শূন্য, রাজপথ নিঃসঙ্গ।
শফি আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রবিউল আওয়াল শাওন বলেন, “আদর্শবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অন্যতম উদাহরণ শফি আহমেদ। রাজনীতিতে অর্ধস্ফুট ফুলের মতো একজন মানুষ। আমি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
শফি আহমেদ শিখিয়ে গেছেন—ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে, আদর্শ নিয়ে বাঁচতে। তাঁর দেখানো পথেই হাঁটবে আগামীর প্রজন্ম।
বিনম্র শ্রদ্ধা হে মহান যোদ্ধা। আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।
—

দৈনিক নেত্রপ্রকাশ 










