
নাছিম মৃধা,জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট।
বাগেরহাটে কলেজ শিক্ষার্থী সৌভিক সেন (রাতুল)-এর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও, বন্ধু ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার দশমীর দিন রাতুল তার কয়েকজন পরিবার এর সদস্যদের সঙ্গে মদ্যপান করেন। ঘটনার পরদিন থেকেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে অচেতন অবস্থায় চলে যান। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা—তার বড় ভাই ও ভাবি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা —রাতুলকে সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাননি।
বন্ধুদের অভিযোগ, পরিবারের অবহেলার কারণেই রাতুলের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের চালককেও টাকা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করানো হয়, যাতে রাতুল হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যায়।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, রাতুলের স্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে নিজেকে ভাবি পরিচয় দিয়ে দেবর বলে রোগীকে ভর্তি করান এবং পরে পালিয়ে যান। এতে বিষয়টি আরও রহস্যঘেরা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং আর্থিক বিষয় পারিবারিক কলহ হ্যালো নিয়ে রাতুলের সঙ্গে তার ভাই-ভাবির সম্পর্ক ভালো ছিল না। অনেকের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি সাজানো হতে পারে।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে রাতুলের বন্ধু ও এলাকাবাসী বাগেরহাট জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
> “রাতুল ভালো ছেলে ছিল, সবার সঙ্গে মিশতো। ওর এমন মৃত্যু আমরা মানতে পারছি না। এটা দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।”
অন্যদিকে, পরিবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে এড়িয়ে যাচ্ছেন।সেই সাথে দ্রুত সৎকারের চেষ্টা করছেন সত্য ঘটনা চাপা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তালবাহানা করছেন।তার বন্ধুদেরও বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন পরিবার।
বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, “ঘটনাটি আমরা জেনেছি, তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
বর্তমানে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।

অনলাইন ডেস্কঃ 









