ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন দেশজুড়ে মানবতার ফেরিওয়ালা ‘বন্ধুত্ব ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি’: জেলা-উপজেলায় রক্ত সংগ্রহে অনন্য দৃষ্টান্ত মরিচ্যা বিজিবির চেকপোস্টে ১০ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক মদনে আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে কৃষকের সোনালী ফসল বোরো ধান ময়মনসিংহে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে র‍্যাবের অভিযানে ২ জন আটক সৌদি আরব উপসাগরীয় নেতারা ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছেন, হরমুজ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির কান্ডারী (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) আহসান হাবীব ঠান্ডু ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিবাদ বীরগঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

আটপাড়ায় বাজারে উঠতে  শুরু করেছে নতুন ধান 

  • অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইমঃ ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৯৫ বার

হাবিবুল ইসলাম 

আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি: 

 

 

 

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের ধান। মৌসুমি কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা, কৃষকদের মাঠে হাসি–সব মিলিয়ে এখন পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার ছাতল হাওর, কামরাইল হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগোছে

 

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ফলে দ্রুতই ঘরে তুলতে পেরেছেন তারা।।

কৃষক নজরুল ইসলাম জানান এ “এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কোনো বড় ধরনের রোগবালাই হয়নি। শ্রমিক সংকটও তেমন ছিল না। এখন শুধু চাই ন্যায্যমূল্য—তা পেলে আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম সফল হবে।”

 

 

বানিয়াজান গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন

এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে।

 

 

স্থানীয় বাজারগুলোতে সকাল থেকে জমে উঠছে নতুন ধান কেনাবেচা। প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৮০-১২০০ টাকা

 

কৃষকরা বাজারে নিয়ে আসছেন সদ্য কাটানো ধান, আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই কিনছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বাজারেও নেমে এসেছে সরব ব্যস্ততা। ধান ব্যবসায়ী রুবেল চৌধুরী বলেন

“বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় লেনদেন বেড়েছে। এবার ধানের গুণমানও ভালো, তাই পাইকাররা আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। সরবরাহ আরও বাড়লে বাজার স্থিতিশীল হবে। কৃষকরা ভালো দাম পেলে ব্যবসাও আরও গতিশীল হবে।”

 

 

কৃষকরা জানিয়েছেন, এ বছর উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে নতুন ধান উঠতে থাকায় অচিরেই ধানের দামও স্থিতিশীল হবে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ধানের সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব পড়বে, কমতে পারে চালের দাম। আটপাড়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন নতুন ধানের খোঁজে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপা বলেন, এ বছর আটপাড়া উপজেলায় ধানের মোট উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন আরও বলেন,

আটপাড়া উপজেলায় ধানের সামগ্রিক ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক। সময়মতো সার, বীজ ও প্রযুক্তিসহ সব ধরনের কৃষি সহায়তা আমরা নিশ্চিত করেছি। কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় উৎপাদন বেড়েছে। নতুন ধান বাজারে ওঠায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আমরা আশাবাদী। কৃষকদের পাশে থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে কাজ করছি।”

 

তিনি আরও বলেন,

“আগামী মৌসুমেও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সেচসহ সকল সেবা আরও দ্রুততার সঙ্গে দেওয়া হবে। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে ধানের ভাল ফলন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

 

নতুন ধান বাজারে ওঠায় কৃষকদের মুখে দেখা দিয়েছে স্বস্তির হাসি, আর প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।

ট্যাগঃ

মদন উপজেলায় র‍্যালি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মে দিবস উদযাপন

আটপাড়ায় বাজারে উঠতে  শুরু করেছে নতুন ধান 

আপডেট টাইমঃ ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

হাবিবুল ইসলাম 

আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি: 

 

 

 

নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায় বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন মৌসুমের ধান। মৌসুমি কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা, কৃষকদের মাঠে হাসি–সব মিলিয়ে এখন পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার ছাতল হাওর, কামরাইল হাওর ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগোছে

 

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন হয়েছে আশানুরূপ। ফলে দ্রুতই ঘরে তুলতে পেরেছেন তারা।।

কৃষক নজরুল ইসলাম জানান এ “এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কোনো বড় ধরনের রোগবালাই হয়নি। শ্রমিক সংকটও তেমন ছিল না। এখন শুধু চাই ন্যায্যমূল্য—তা পেলে আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম সফল হবে।”

 

 

বানিয়াজান গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন

এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো হয়েছে।

 

 

স্থানীয় বাজারগুলোতে সকাল থেকে জমে উঠছে নতুন ধান কেনাবেচা। প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৮০-১২০০ টাকা

 

কৃষকরা বাজারে নিয়ে আসছেন সদ্য কাটানো ধান, আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই কিনছেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বাজারেও নেমে এসেছে সরব ব্যস্ততা। ধান ব্যবসায়ী রুবেল চৌধুরী বলেন

“বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় লেনদেন বেড়েছে। এবার ধানের গুণমানও ভালো, তাই পাইকাররা আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। সরবরাহ আরও বাড়লে বাজার স্থিতিশীল হবে। কৃষকরা ভালো দাম পেলে ব্যবসাও আরও গতিশীল হবে।”

 

 

কৃষকরা জানিয়েছেন, এ বছর উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে নতুন ধান উঠতে থাকায় অচিরেই ধানের দামও স্থিতিশীল হবে।

 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ধানের সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব পড়বে, কমতে পারে চালের দাম। আটপাড়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিনই ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন নতুন ধানের খোঁজে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপা বলেন, এ বছর আটপাড়া উপজেলায় ধানের মোট উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন আরও বলেন,

আটপাড়া উপজেলায় ধানের সামগ্রিক ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক। সময়মতো সার, বীজ ও প্রযুক্তিসহ সব ধরনের কৃষি সহায়তা আমরা নিশ্চিত করেছি। কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় উৎপাদন বেড়েছে। নতুন ধান বাজারে ওঠায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আমরা আশাবাদী। কৃষকদের পাশে থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে কাজ করছি।”

 

তিনি আরও বলেন,

“আগামী মৌসুমেও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সেচসহ সকল সেবা আরও দ্রুততার সঙ্গে দেওয়া হবে। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলে ধানের ভাল ফলন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

 

নতুন ধান বাজারে ওঠায় কৃষকদের মুখে দেখা দিয়েছে স্বস্তির হাসি, আর প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।