
হাবিবুল ইসলাম
আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শীত মৌসুম শুরু হলেই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কুয়াশা, শীতল বাতাস ও তাপমাত্রা হ্রাসের কারণে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও চর্মরোগের প্রকোপ এ সময় বেশি দেখা যায়। তাই শীতকালে সুস্থ থাকতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখা জরুরি
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালে শরীর গরম রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গরম কাপড় যেমন—সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, টুপি ও মোজা ব্যবহার করা উচিত। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন তারা ঠান্ডায় আক্রান্ত না হন।
পুষ্টিকর ও উষ্ণ খাবার গ্রহণ
শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস ও ফলমূল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পাশাপাশি গরম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, কারণ শীতেও শরীর পানিশূন্য হতে পারে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
শীতকালে গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। হাত-পা পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখলে ভাইরাস ও জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
কুয়াশায় চলাচলে সতর্কতা
ভোরবেলা ও রাতে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজন ছাড়া কুয়াশার মধ্যে বের না হওয়া এবং বাইরে বের হলে উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা ও যানবাহনের লাইট ব্যবহার করা জরুরি।
শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন
শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে সহজেই আক্রান্ত হন। তাই তাদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকের পরামর্শ
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শীতকালে সামান্য অবহেলাও বড় রোগের কারণ হতে পারে। তাই জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘদিন কাশি থাকলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।
শীতকাল উপভোগের পাশাপাশি সচেতন থাকলে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় মেনে চললে সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব—এমনটাই মত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















