ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি। সৌদি আরব এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী ৭,৭৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলমাকান্দায় ৫ বছর পর সচল কলমাকান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল উদ্বোধন  বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনী, কর্মচারী ইউনিয়নের, কক্সবাজার জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক, দফাদার। দিরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ইটভাটার ম্যানেজার নিহত মদনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক কমিটি গঠন: অলক আহ্বায়ক, রামানন্দ সদস্য সচিব। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বাজার মনিটরিংয়ে আটপাড়া প্রশাসনের বিশেষ অভিযান মদনে টানা তৃতীয়বার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হলেন  ফাতেমা আক্তার। গফরগাঁওয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল: বাধা দেওয়ায় কৃষকদের হুমকি মদন মহিউদ্দিন মার্কেটে ক্যাশ বক্স ভেঙে দিনের বেলা চুরি। 

সুনামগঞ্জ এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়; অভিভাবকরা হতাশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, তৌফিকুর রহমান তাহের।

 

সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি কলেজে ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবক। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১২ হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৪৭.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ ফেল করেছে ৬ হাজার ৭৭০ জন শিক্ষার্থী – যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫২.৬৫ শতাংশ। এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, জেলার অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের বাধা পেরুতে পারেনি। অথচ গত বছর এই পাশের হার ছিল ৮৬.৯৪ শতাংশ – এক বছরের ব্যবধানে ৩৯.৫৯ শতাংশ কমে যাওয়া দেশের কোনো জেলায় নজিরবিহীন। ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক – জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিকেও দেখা গেছে বড় ধস। ২০২৪ সালে সুনামগঞ্জে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৩৬ জন, কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ জন। এক বছরে ৩৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর পতন – যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস। সেরা প্রতিষ্ঠান: জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, যেখানে ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হারে শীর্ষে দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখানে পাশের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ। উপজেলার মধ্যে শাল্লা সবার আগে পাশের হারে। সবচেয়ে খারাপ ফলাফল: দোয়ারাবাজারের প্রগতি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-৭৩ জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৪ জন (৫.৪৮%), দিরাইয়ের রজনীগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-৪৭ জনের মধ্যে পাশ ৩ জন (৬.৩৮%), ধর্মপাশার গোলকপুর হাজী এ. হাফেজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-১৫ জনের মধ্যে পাশ ১ জন (৬.৬৭%) এছাড়াও জেলায় ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৩০ শতাংশের নিচে। একাধিক অভিভাবক ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজ পাঠাই যাতে তারা লেখাপড়া করে ভালো রেজাল্ট করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে। এবারের ফলাফল আমাদের হতাশ করেছে। কারণ একজন অভিভাবক তার সন্তানের লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি ও ব্যয়ভার মেটাতে কষ্ট করে। তাদের ভালো রেজাল্ট হলে আমাদের এ কষ্ট থাকতো না। এর আগে এমন খারাপ রেজাল্ট কখনো হয়নি। আমরা চাই ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে লেখপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কলেজে রীতিমতো ক্লাস হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, আশানুরূপ রেজাল্ট হয়নি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে সুশীল সমাজ ও জনগণের মানববন্ধন  ‘দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’, মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবি।

সুনামগঞ্জ এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়; অভিভাবকরা হতাশ

আপডেট টাইমঃ ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, তৌফিকুর রহমান তাহের।

 

সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিটি কলেজে ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবক। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলার ১২ হাজার ৫৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৬৫ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৪৭.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ ফেল করেছে ৬ হাজার ৭৭০ জন শিক্ষার্থী – যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫২.৬৫ শতাংশ। এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, জেলার অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকের বাধা পেরুতে পারেনি। অথচ গত বছর এই পাশের হার ছিল ৮৬.৯৪ শতাংশ – এক বছরের ব্যবধানে ৩৯.৫৯ শতাংশ কমে যাওয়া দেশের কোনো জেলায় নজিরবিহীন। ফলাফলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক – জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিকেও দেখা গেছে বড় ধস। ২০২৪ সালে সুনামগঞ্জে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৩৬ জন, কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ জন। এক বছরে ৩৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর পতন – যা ৮৬ শতাংশ হ্রাস। সেরা প্রতিষ্ঠান: জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, যেখানে ৩২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হারে শীর্ষে দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখানে পাশের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ। উপজেলার মধ্যে শাল্লা সবার আগে পাশের হারে। সবচেয়ে খারাপ ফলাফল: দোয়ারাবাজারের প্রগতি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-৭৩ জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৪ জন (৫.৪৮%), দিরাইয়ের রজনীগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-৪৭ জনের মধ্যে পাশ ৩ জন (৬.৩৮%), ধর্মপাশার গোলকপুর হাজী এ. হাফেজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ-১৫ জনের মধ্যে পাশ ১ জন (৬.৬৭%) এছাড়াও জেলায় ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৩০ শতাংশের নিচে। একাধিক অভিভাবক ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজ পাঠাই যাতে তারা লেখাপড়া করে ভালো রেজাল্ট করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করে। এবারের ফলাফল আমাদের হতাশ করেছে। কারণ একজন অভিভাবক তার সন্তানের লেখাপড়ার পরিবেশ সৃষ্টি ও ব্যয়ভার মেটাতে কষ্ট করে। তাদের ভালো রেজাল্ট হলে আমাদের এ কষ্ট থাকতো না। এর আগে এমন খারাপ রেজাল্ট কখনো হয়নি। আমরা চাই ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে লেখপড়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কলেজে রীতিমতো ক্লাস হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, আশানুরূপ রেজাল্ট হয়নি।