
মদন (নেত্রকোনা )প্রতিনিধি শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১৪বছরের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই মেয়ের ‘মা’ গত ৪মে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় নাজমুল (২০) নামের এক যুবকের বাসা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই যুবককে আটক করে পুলিশ।
অভিযুক্ত নাজমুল উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে। কিশোরী ও আটক যুবক একই এলাকার বাসিন্দা।
জিডি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরী ও তার মা জীবিকা নির্বাহের তাগিদে চট্টগ্রামের পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গত রমজানের ছুটিতে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িতে আসেন। ঈদের ছুটি শেষে ১১এপ্রিল ওই কিশোরী তার মায়ের সাথে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য তিয়শ্রী বাজারে আসে। কিশোরীর মার মোবাইল ফোনে ব্যালেন্স না থাকায় রিচার্জ করার জন্য বাজারে যান। রিচার্জ করে গাড়ির কাছে এসে তার মেয়েকে পাননি। এক পর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়ে তার সন্ধান পায়নি। এরপর কিশোরীর ‘মা’ গত ৪মে মদন থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ডাইরি মূলে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় নাজমুলের বাসা থেকে কিশোরকে উদ্ধার করেন। একই সাথে নাজমুল নামের ওই যুবককে পুলিশ আটক করে মদন থানায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা আজ বৃহস্পতিবার মদন থানা একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। কিশোরী মেয়েটি কে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
অপহৃত কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়ে গত এক-দেড় মাস আগে নাজমুল নামের ওই বখাটে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার বাসায় আটকে রেখে আমার কিশোরী মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় সে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের জিডির মূলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় নাজমুল নামের এক যুবকের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর মা আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল নেত্রকোনা হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।

অনলাইন ডেস্কঃ 

















