
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায় যে, মায়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ প্রেক্ষিতে ২ বিজিবি অধিনায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী উক্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী এবং সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড রুখতে সার্বক্ষণিক সতর্কতার অংশ হিসেবে, আজ ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ প্রথম প্রহরে আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকায় নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা হতে মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে ০৩ জন ব্যক্তিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আটক করা হয়। তবে, উক্ত চক্রটির সাথে জড়িত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পুরাতন পল্লানপাড়ার মোঃ ওসমান আভিযানিক দলের উপস্থিতে টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। আটককৃত ব্যক্তিদের মাদকদ্রব্য পাচারের বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নেতৃত্বে নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-০৫ হতে আনুমানিক ৮০০ মিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাটা চলাকালীন সময়ে বিশেষ পন্থায় লুকানো মাদক অনুসন্ধানে দিনভর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে ১৭৩০ ঘটিকায় (ভাটা চলাকালীন সময়ে) নাফ নদীর তলদেশে কাদা মাটির নীচে বিশেষ কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় ২০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পলাতক আসামীর অবস্থান অনুসন্ধান এবং তাকে অতিদ্রুত গ্রেফতার করতে ২ বিজিবির অভিযান অব্যহত রয়েছে।
আটককৃত আসামীদের বিস্তারিত ঠিকানা নিম্নরুপ
সাত্তার আমীন(৪৬), পিতা-নুর হোসেন, গ্রাম-নাইট্যংপাড়া (০১ নং ওয়ার্ড), পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
আব্দুল মালেক(৩৮), পিতা-কবির আহম্মদ, গ্রাম-পুরাতন পল্লানপাড়া (০২ নং ওয়ার্ড), পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
ফয়েজ উল্লাহ(১৯), পিতা-দলু হোসেন, গ্রাম-পুরাতন পল্লানপাড়া (০২ নং ওয়ার্ড), পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
পলাতক আসামীর বিস্তারিত ঠিকানা নিম্নরুপ
মোঃ ওসমান, পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম- পুরাতন পল্লানপাড়া (০২ নং ওয়ার্ড), পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
অজ্ঞাত আসামী-১/২ জন।*জব্দকৃত আলামত
ইয়াবা ট্যাবলেট-২০,০০০ পিস।
মোবাইল ফোন-০১ টি।
এ বিষয়ে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, “সীমান্তাঞ্চলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। যা স্থানীয় জনমনে গভীর আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাবের সঞ্চার ঘটিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল প্রকার আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি’র এই বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আটককৃত আসামি ও জব্দকৃত ২০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

অনলাইন ডেস্কঃ 



















