
লিমা আক্তার
আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার উপজেলার ২নং শুনই ইউনিয়নের মুনসুরপুর বিষনাইকান্দা হাওর ও ভরতোষী গ্রামে ভয়াবহ বজ্রপাতে অন্তত ৪টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পৃথক স্থানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষক পরিবারগুলো প্রায় কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় মুনসুরপুর বিষনাইকান্দা হাওরে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে রাখা গরুগুলোর ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই কয়েকটি গরু মারা যায়।
উত্তর মুনসুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হালান মিয়া জানান, তিনি দুপুরে তার দুটি গরু হাওরে ঘাস খাওয়ার জন্য দিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। বৃষ্টি থামার পর তিনি গরুগুলোর খোঁজে হাওরে গেলে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর কয়েকটি গরুকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন বজ্রপাতে গরুগুলো মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন,
“মৃত গরুর মধ্যে দুটি আমার। গরু দুটির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এক মুহূর্তের মধ্যে আমার বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”
একই ঘটনায় হাকিম মিয়ার একটি গরুও বজ্রপাতে মারা যায়। নিহত গরুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। হাকিম মিয়া পাশ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলার জিতন গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে একই দিনে আটপাড়া উপজেলার ২নং শুনই ইউনিয়নের ভরতোষী গ্রামে সিদ্দিক মাস্টারের একটি গরু বাড়ির পাশে একটি রেন্টি গাছের সঙ্গে বাঁধা থাকা একটি ষাঁড় গরুও বজ্রপাতে মারা যায়। স্থানীয়রা জানান, গরুটির বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই গরু টি আগামী কাল কোরবানি গরুর হাটে আনার কথা ছিলো
স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা জানান, চলতি মৌসুমে ঘন ঘন বজ্রপাতের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। হাওরাঞ্চলে গবাদিপশু নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটছে তাদের। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন ডেস্কঃ 
















