ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলোচিত ইমামের ওপর হামলার প্রধান আসামি সাইফুল গ্রেপ্তার ভোলাহাট স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)’র ২৮তম শিক্ষা সম্মিলন অনুষ্ঠিত! যতটুকু বলব, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব: ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ইমামের উপর হামলার প্রতিবাদে জামতলা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দিনশেষে ঠিকানা সাড়ে ৩ হাত মাটি, দুর্নীতিবাজ ও চোরাকারবারিদের হুঁশিয়ারি ডেপুটি স্পিকারের নাজিরপুরে কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি হজের মাস হাসানপুর বাউল গান বন্ধে থানায় অভিযোগ, গান হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা। শাল্লায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ মদনে কুরবানীর পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবন দেওয়া নিশ্চিতকরণে আনসার ও ভিডিপির প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ‎ক্ষমতা নয়, সেবা” লুনেশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল মিয়ার ৮৩ দফা প্রতিশ্রুতি ‎

শাল্লায় ভিজিডি তালিকায় ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ

তৌফিকুর রহমান তাহের সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি, 

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে ভিজিডি (বর্তমানে ভিডব্লিউবি) কার্ডের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি এই সুবিধার কার্ড বিতরণে দুস্থদের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তি এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা

এ বিষয়ে ভাটগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের মেয়ে মোছাঃ শাহানা খাতুন গত ১৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি ভাতার কার্ড (প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও ভিজিডি) করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিজিডি তালিকায় দেখা গেছে, প্রকৃত দুস্থদের নাম বাদ দিয়ে মেম্বারের ঘনিষ্ঠ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার পেয়েছে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিজ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও, আলমাছ মিয়া টাকার বিনিময়ে পাশের শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও (চান্দাকোনা) গ্রামের জনৈক শারমিন আক্তারকে নিজ ওয়ার্ডের তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকার অনেক উপকারভোগীর ছেলে বিদেশে কর্মরত এবং অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সচ্ছল হলেও তারা সরকারি এই চালের সুবিধা পাচ্ছেন। তালিকায় মেম্বারের নিকটাত্মীয়দের আধিক্য নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগকারী মোছাঃ শাহানা খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের হক মেরে মেম্বার বড়লোক আর নিজের আত্মীয়দের নাম দিছে। অন্য ইউনিয়নের মানুষ এসে আমাদের কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। আমি এর বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়নি, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।

 

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাল্লার সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দুস্থরা পায়, সে জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই তালিকা সংশোধন করা এবং অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আলোচিত ইমামের ওপর হামলার প্রধান আসামি সাইফুল গ্রেপ্তার

শাল্লায় ভিজিডি তালিকায় ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট টাইমঃ ০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

তৌফিকুর রহমান তাহের সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি, 

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নে ভিজিডি (বর্তমানে ভিডব্লিউবি) কার্ডের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ৩ নং বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি এই সুবিধার কার্ড বিতরণে দুস্থদের পরিবর্তে সচ্ছল ব্যক্তি এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা

এ বিষয়ে ভাটগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের মেয়ে মোছাঃ শাহানা খাতুন গত ১৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি ভাতার কার্ড (প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও ভিজিডি) করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিজিডি তালিকায় দেখা গেছে, প্রকৃত দুস্থদের নাম বাদ দিয়ে মেম্বারের ঘনিষ্ঠ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার পেয়েছে।

 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিজ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও, আলমাছ মিয়া টাকার বিনিময়ে পাশের শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও (চান্দাকোনা) গ্রামের জনৈক শারমিন আক্তারকে নিজ ওয়ার্ডের তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া তালিকার অনেক উপকারভোগীর ছেলে বিদেশে কর্মরত এবং অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ সচ্ছল হলেও তারা সরকারি এই চালের সুবিধা পাচ্ছেন। তালিকায় মেম্বারের নিকটাত্মীয়দের আধিক্য নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগকারী মোছাঃ শাহানা খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের হক মেরে মেম্বার বড়লোক আর নিজের আত্মীয়দের নাম দিছে। অন্য ইউনিয়নের মানুষ এসে আমাদের কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। আমি এর বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ আলমাছ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়নি, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।

 

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাল্লার সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত দুস্থরা পায়, সে জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই তালিকা সংশোধন করা এবং অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।