ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভোলাহাট স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)’র ২৮তম শিক্ষা সম্মিলন অনুষ্ঠিত! যতটুকু বলব, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব: ডেপুটি স্পিকার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ইমামের উপর হামলার প্রতিবাদে জামতলা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দিনশেষে ঠিকানা সাড়ে ৩ হাত মাটি, দুর্নীতিবাজ ও চোরাকারবারিদের হুঁশিয়ারি ডেপুটি স্পিকারের নাজিরপুরে কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি হজের মাস হাসানপুর বাউল গান বন্ধে থানায় অভিযোগ, গান হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা। শাল্লায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২, এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ মদনে কুরবানীর পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবন দেওয়া নিশ্চিতকরণে আনসার ও ভিডিপির প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ‎ক্ষমতা নয়, সেবা” লুনেশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল মিয়ার ৮৩ দফা প্রতিশ্রুতি ‎ পানছড়িতে অর্ধশতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বিজিবির ঈদ উপহার প্রদান

টেকনাফ বন্দরে ৭ মাস ধরে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি আমরা বাচঁতে চাই আমাদের দাবী।

মেহেদী হাসান আরফাত
টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি:

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের সঙ্গে সাত মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী।
পুনরায় বন্দরের কার্যক্রম সচল করতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয়রা মানববন্ধন এবং আন্দোলন করেন।

জানা গেছে, মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সে দেশ থেকে পণ্য আমদানির সময় নাফনদী আরাকান আর্মির সদস্যরা পণ্যবাহী জাহাজগুলো আটকানোসহ বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ধীরে ধীরে বন্ধ যায়। সব মিলিয়ে সাত মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ার পর থেকে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি পুনরায় সচল করতে হবে।

টেকনাফ বন্দরের শ্রমিক নেজাম উদ্দিন জানান, বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কয়েক বছর কাজ করেছি। সেখান থেকে উপার্জিত টাকায় ছেলে-মেয়ের পড়াশোনাসহ পরিবারের খরচ জোগাড় হতো। এখন টেকনাফ বন্দরে সাত মাস ধরে কোনো কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি।
টেকনাফ বন্দরের ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এখন আমরা বেকার। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা রয়ে গেছে। আজকের আন্দোলন ও মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানাতে চাই, টেকনাফ স্থলবন্দরে পুনরায় কার্যক্রম সচলের ব্যবস্থা করা হোক। আমরা বাঁচতে চাই, বাঁচতে দিন।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহারদুর জানান, সাত মাস ধরে বন্দরের পণ্য আমাদানি-রপ্তানি বন্ধের কারণে এপারের ব্যবসায়ীরা খুব বিপাকে পড়েন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হয়নি। আরাকান আর্মির বাধার কারণে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সম্যসা সৃষ্টি হয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ জানান, মিয়ানমার সঙ্গে টেকনাফ বন্দরের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সাত মাস ধরে বন্ধের কারণে সরকার প্রতি মাসে ৪০-৫০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন টেকনাফ বন্দর থেকে রাজস্বখাতে সরকার এক টাকাও পাচ্ছে না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বন্দরের কার্যক্রম আমাদের পক্ষ থেকে বন্ধ নেই। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে টেকনাফ স্থলবন্দরের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। তবে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাট স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (বিএসএ)’র ২৮তম শিক্ষা সম্মিলন অনুষ্ঠিত!

টেকনাফ বন্দরে ৭ মাস ধরে বন্ধ আমদানি-রপ্তানি আমরা বাচঁতে চাই আমাদের দাবী।

আপডেট টাইমঃ ০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

মেহেদী হাসান আরফাত
টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি:

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের সঙ্গে সাত মাস ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৪০-৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী।
পুনরায় বন্দরের কার্যক্রম সচল করতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয়রা মানববন্ধন এবং আন্দোলন করেন।

জানা গেছে, মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সে দেশ থেকে পণ্য আমদানির সময় নাফনদী আরাকান আর্মির সদস্যরা পণ্যবাহী জাহাজগুলো আটকানোসহ বাধা সৃষ্টি করে। এ কারণে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ধীরে ধীরে বন্ধ যায়। সব মিলিয়ে সাত মাস ধরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ার পর থেকে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অবিলম্বে টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি পুনরায় সচল করতে হবে।

টেকনাফ বন্দরের শ্রমিক নেজাম উদ্দিন জানান, বন্দরে শ্রমিক হিসেবে কয়েক বছর কাজ করেছি। সেখান থেকে উপার্জিত টাকায় ছেলে-মেয়ের পড়াশোনাসহ পরিবারের খরচ জোগাড় হতো। এখন টেকনাফ বন্দরে সাত মাস ধরে কোনো কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি।
টেকনাফ বন্দরের ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এখন আমরা বেকার। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকা রয়ে গেছে। আজকের আন্দোলন ও মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানাতে চাই, টেকনাফ স্থলবন্দরে পুনরায় কার্যক্রম সচলের ব্যবস্থা করা হোক। আমরা বাঁচতে চাই, বাঁচতে দিন।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহারদুর জানান, সাত মাস ধরে বন্দরের পণ্য আমাদানি-রপ্তানি বন্ধের কারণে এপারের ব্যবসায়ীরা খুব বিপাকে পড়েন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হয়নি। আরাকান আর্মির বাধার কারণে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সম্যসা সৃষ্টি হয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ জানান, মিয়ানমার সঙ্গে টেকনাফ বন্দরের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সাত মাস ধরে বন্ধের কারণে সরকার প্রতি মাসে ৪০-৫০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন টেকনাফ বন্দর থেকে রাজস্বখাতে সরকার এক টাকাও পাচ্ছে না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, বন্দরের কার্যক্রম আমাদের পক্ষ থেকে বন্ধ নেই। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে টেকনাফ স্থলবন্দরের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। তবে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে।